ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. মাহবুব ‘বনলতা’ ব্যাংকে জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। কাজে দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য অতি দ্রুত তিনি সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। গত ঈদে তিনি পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের এক লক্ষ টাকার জামা-কাপড় দেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। গত বছর তিনি একটি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরিকে ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেন। এতে সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধা করে। উপলতা নামে অন্য একটি ব্যাংক তাকে ঊর্ধ্বতন পদে যোগদানের আমন্ত্রণ জানায় এবং তাকে ২০ লক্ষ টাকা বেতন, সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং সুসজ্জিত বাংলো দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রত্যাশিত সুবিধা পেয়ে মি. মাহবুব “উপলতা” ব্যাংকে যোগ দেয়।
- ক)(1)
অনার্থিক প্রেষণা কী?
- খ)(2)
প্রেষণা-চক্র বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বনলতা ব্যাংকের চাকরি অনুযায়ী মি. মাহবুব মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের কোন স্তরে অবস্থান করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“চাহিদা সোপান তত্ত্বের চতুর্থ স্তরের অভাবই মি. মাহবুবের পূর্বের চাকরি ত্যাগের মূল কারণ”— যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয় এমন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রক্রিয়াকে অনার্থিক প্রেষণা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের অভাবের অনুভূতি থেকে শুরু করে তা পূরণের জন্য কর্মপ্রচেষ্টা চালানো এবং অভাব পূরণের পর পুনরায় নতুন অভাব সৃষ্টির এই চলমান ও চক্রাকার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা-চক্র বলে। মানুষের কোনো একটি অভাব অনুভূত হলে মানসিক উত্তেজনা তৈরি হয়, যা তাকে লক্ষ্যমুখী আচরণে পরিচালিত করে। সেই অভাব পূরণ হলে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং ব্যক্তি সন্তুষ্টি লাভ করে। পরবর্তীতে পুনরায় নতুন কোনো অভাব অনুভূত হয়ে একই চক্র আবর্তিত হতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বনলতা ব্যাংকের চাকরি অনুযায়ী মি. মাহবুব মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের চতুর্থ স্তর অর্থাৎ 'আত্মমর্যাদা বা সম্মানের চাহিদা' (Esteem Needs) স্তরে অবস্থান করেছেন।
মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বে পর্যায়ক্রমে জৈবিক, নিরাপত্তা, সামাজিক, আত্মমর্যাদা এবং আত্মবিকাশের চাহিদা বিদ্যমান। যখন ব্যক্তি সমাজে বা প্রতিষ্ঠানে পদমর্যাদা, খ্যাতি, স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করে, তখন তাকে আত্মমর্যাদার চাহিদা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মাহবুব বনলতা ব্যাংকে সিনিয়র পদে পদোন্নতি পান, আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেন এবং সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন (সামাজিক স্তর অতিক্রান্ত)। এরপর তিনি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরিতে ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেন এবং এর ফলে সবাই তাঁকে খুব শ্রদ্ধা করতে শুরু করে। অন্যের কাছ থেকে শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি লাভ করা হলো আত্মমর্যাদার চাহিদার পরিচায়ক। সুতরাং, বনলতা ব্যাংকে তিনি আত্মমর্যাদার চাহিদার স্তরে অবস্থান করছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“চাহিদা সোপান তত্ত্বের চতুর্থ স্তরের অভাবই মি. মাহবুবের পূর্বের চাকরি ত্যাগের মূল কারণ”— উক্তিটি সঠিক নয়; মূলত উচ্চতর আত্মমর্যাদা এবং আত্মবিকাশের আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে চাকরি পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুসারে চতুর্থ স্তর হলো আত্মমর্যাদার চাহিদা (খ্যাতি, পদমর্যাদা, শ্রদ্ধা) এবং পঞ্চম স্তর হলো আত্মবিকাশের চাহিদা (নিজ সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ও শীর্ষ অবস্থান)।
উদ্দীপক অনুযায়ী, বনলতা ব্যাংকে থাকা অবস্থাতেই মি. মাহবুবের আত্মমর্যাদার চাহিদা বহুলাংশে পূরণ হয়েছিল; কারণ সবাই তাঁকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করত এবং তিনি সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। তবে 'উপলতা' ব্যাংক তাঁকে আরো ঊর্ধ্বতন পদ, ২০ লক্ষ টাকা বেতন, সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং সুসজ্জিত বাংলোর মতো সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব দেয়। এটি তাঁর উচ্চতর সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতার বিস্তার এবং কর্মজীবনের সর্বোচ্চ শীর্ষ পর্যায় বা আত্মবিকাশের আকর্ষণে সাড়া দেওয়ার শামিল।
চতুর্থ স্তরের অভাব থাকার কারণে তিনি বনলতা ব্যাংক ছাড়েননি; বরং ইতিমধ্যে সেই স্তর অর্জিত হওয়ার পর আরও বড় পদমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সুযোগ (পঞ্চম স্তর বা আত্মবিকাশ ও অতি-উচ্চ মর্যাদা) পেয়ে তিনি নতুন ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং, পূর্বের চাকরিতে চতুর্থ স্তরের অভাবের কারণে তিনি চাকরি ছেড়েছেন— এ দাবি যথার্থ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও