যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
অবন্তী একজন শিক্ষক। তিনি সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ছবি। আঁকেন। তিনি খুবই সংগীত প্রিয় এবং সৌন্দর্য ও শিল্পবোধের প্রতি আগ্রহ প্রবল।
- ক)(1)
দর্শন কী?
- খ)(2)
ব্যবসায় ও পেশাগত নীতিবিদ্যা এক নয় কেন? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে অবন্তীর চরিত্রে যে পরিচয় পাওয়া যায় তা জ্ঞান শাখার কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির সাথে যুক্তিবিদ্যার সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জগৎ ও জীবনের মৌলিক সমস্যাবলি, সত্তা, জ্ঞান, সত্য ও মূল্যবোধের যৌক্তিক ও সুসংবদ্ধ অনুসন্ধানই হলো দর্শন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় নীতিবিদ্যা এবং পেশাগত নীতিবিদ্যা পরিধি ও প্রয়োগক্ষেত্রের দিক থেকে এক নয়। ব্যবসায় নীতিবিদ্যা হলো সাধারণ নীতিবিদ্যার একটি প্রায়োগিক শাখা, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন, মুনাফা অর্জন, সততা ও সামাজিক দায়িত্বের নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, পেশাগত নীতিবিদ্যা চিকিৎসাবিদ্যা, আইন, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ইত্যাদি নির্দিষ্ট পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য নৈতিক আচরণবিধি বা কোড অব কন্ডাক্ট নির্দেশ করে। সুতরাং, পেশাগত নীতিবিদ্যার তুলনায় ব্যবসায় নীতিবিদ্যা কেবল ব্যবসা ও আর্থিক কার্যক্রমের নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এরা অভিন্ন নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবন্তীর চরিত্রে যে পরিচয় পাওয়া যায় তা দর্শনের অন্যতম প্রধান শাখা 'নন্দনতত্ত্ব' (Aesthetics)-এর সাথে সম্পর্কিত।
নন্দনতত্ত্ব হলো দর্শনের একটি আদর্শনিষ্ঠ শাখা, যা সৌন্দর্য ও শিল্পের স্বরূপ, মানদণ্ড এবং মানুষের নান্দনিক অনুভূতি নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে। শিল্পকলা, সংগীত, সাহিত্য এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের উপলব্ধি ও মূল্যায়ন করা নন্দনতত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অবন্তী সাহিত্য চর্চা ও ছবি আঁকার সাথে জড়িত, সংগীতপ্রিয় এবং তার মধ্যে সৌন্দর্য ও শিল্পবোধের গভীর অনুরাগ রয়েছে। শিল্প ও সৌন্দর্যের এই অনুধ্যান এবং উপভোগ নন্দনতত্ত্বের মূল বিষয়বস্তুর প্রতিফলন। তাই অবন্তীর মধ্যে প্রকাশিত নান্দনিক প্রবৃত্তি জ্ঞানের শাখা হিসেবে দর্শনের 'নন্দনতত্ত্ব'-এর সাথে সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'নন্দনতত্ত্ব'। নিচে নন্দনতত্ত্বের সাথে যুক্তিবিদ্যার সম্পর্ক আলোচনা করা হলো:
উভয়ের সাধারণ উৎস ও আদর্শনিষ্ঠ রূপ:
যুক্তিবিদ্যা এবং নন্দনতত্ত্ব উভয়ই দর্শনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি আদর্শনিষ্ঠ শাখা। দর্শন জীবনের তিনটি প্রধান পরম আদর্শ—সত্য, সুন্দর ও শিব (মঙ্গলের আদর্শ)-কে সামনে রেখে আলোচনা করে। এর মধ্যে যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো 'সত্য' (Truth) এবং নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হলো 'সুন্দর' (Beauty)।উদ্দেশ্য ও বিষয়ের দিক থেকে পার্থক্য:
১. যুক্তিবিদ্যা বৈধ চিন্তন বা অনুমানের নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং ভ্রান্তি দূর করে সত্য অর্জন করতে চায়। অপরদিকে, নন্দনতত্ত্ব শিল্প, রূপ ও রসের বিচার করে সুন্দরের স্বরূপ নির্ণয় করে।
২. যুক্তিবিদ্যা মানুষের বৌদ্ধিক বা চিন্তন শক্তির সাথে জড়িত; এটি প্রধানত বুদ্ধিভিত্তিক। কিন্তু নন্দনতত্ত্ব মানুষের অনুভূতি, আবেগ ও কল্পনাপ্রসূত অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।পারস্পরিক যোগসূত্র:
যদিও বিষয়ের ভিন্নতা রয়েছে, তবুও তারা পরস্পরের পরিপূরক। একটি উৎকৃষ্ট শিল্পকর্ম বা সাহিত্য সৃষ্টির পেছনেও অভ্যন্তরীণ সংগতি, নিয়মানুবর্তিতা ও সুসংবদ্ধ চিন্তার প্রয়োজন হয়, যা যুক্তিবিদ্যার নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সুন্দরের প্রকাশ যখন যৌক্তিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ঘটে, তখনই তা প্রকৃত নান্দনিক রূপ ধারণ করে। আবার যুক্তিবিদ্যাকে কেবল একটি কঠোর বিজ্ঞান বলা হয় না, এটি যুক্তি প্রয়োগের একটি শৈল্পিক দক্ষতা তথা কলাও বটে।পরিশেষে বলা যায়, সত্য ও সুন্দরের মিলন জীবনের পূর্ণতা দান করে। তাই সত্যের সন্ধানী যুক্তিবিদ্যা এবং সুন্দরের পূজারী নন্দনতত্ত্ব দর্শনের জগতে একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও