অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও যোগাযোগ বাবদ ব্যয় এবং দুঃস্থ ও বয়স্কভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক ব্যয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার একদিকে দেশের অভ্যন্তরে জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করছে।

  1. ক)

    পরোক্ষ কর কী?

    (1)
  2. খ)

    সরকার আয় করে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সরকারি ঋণের উৎস দুটোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে করের প্রাথমিক ভার (করাঘাত) এবং চূড়ান্ত ভার (করপাত) ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে এবং করদাতা সহজেই অন্য ব্যক্তির ওপর করের বোঝা স্থানান্তর করতে পারে, তাকে পরোক্ষ কর বলে (যেমন: ভ্যাট বা মূসক)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, প্রশাসনিক পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য সরকার আয় করে।

    সরকারকে প্রতিরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক বহুবিধ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই ব্যয় মেটানোর জন্যই সরকার বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর এবং কর-বহির্ভূত উৎস থেকে অর্থ বা রাজস্ব আয় করে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং দুঃস্থ ও বয়স্কভাতার মতো খাতে সামগ্রিক ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে। এ ধরনের ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
    ১. মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশের নাগরিকরা দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত হয়।
    ২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
    ৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও অসমতা দূরীকরণ: দুঃস্থ ও বয়স্কভাতা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং সমাজে বৈষম্য হ্রাস পায়।

    সুতরাং, সরকারি ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন নিশ্চিত করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের ঋণের দুটি উৎসের উল্লেখ রয়েছে— একটি হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং অন্যটি হলো বৈদেশিক ঋণ। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. ঋণের উৎস: অভ্যন্তরীণ ঋণ সরকার দেশের সীমানার মধ্য থেকে অর্থাৎ সাধারণ জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ করা হয় বিদেশি রাষ্ট্র, দ্বিপাক্ষিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ (যেমন: বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি) থেকে।

    ২. জাতীয় আয়ের ওপর প্রভাব: অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে সুদ ও আসল পরিশোধের ফলে দেশের ভেতরেই এক ব্যক্তি বা সংস্থার হাত থেকে অর্থ অন্য হাত বা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হয়, ফলে সামগ্রিক জাতীয় সম্পদ দেশের বাইরে যায় না। কিন্তু বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ বিদেশে চলে যায়, যা জাতীয় আয় থেকে নেট ক্ষয় ঘটায়।

    ৩. শর্ত ও সার্বভৌমত্ব: অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত রাজনৈতিক বা নীতিগত কোনো বৈরী শর্ত থাকে না। অপরদিকে বৈদেশিক ঋণের সাথে প্রায়শই কঠোর অর্থনৈতিক ও নীতিগত শর্তাবলি জুড়ে দেওয়া থাকে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

    ৪. মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার চাপ: অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রাস্ফীতি ডেকে আনতে পারে। পক্ষান্তরে, বৈদেশিক ঋণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করে এবং উন্নয়নমূলক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে, যদিও ভবিষ্যতে বিনিময় হারের অবমূল্যায়নে ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

    পরিশেষে, দুটি উৎসেরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে; তবে জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে অভ্যন্তরীণ ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক ঋণের শর্তহীন ও ফলপ্রসূ ব্যবহার করা কাম্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন