যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টিপাত কমে গেলে খাদ্যশস্য উৎপাদন হ্রাস পায়।
দৃশ্যকল্প-২ : ধানসহ একটি বস্তার ওজন ৬০ কেজি। বস্তার ওজন ২ কেজি। অতএব, ধানের ওজন ৫৮ কেজি।
- ক)(1)
পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কাকে বলে?
- খ)(2)
সার্বিক সত্য প্রতিষ্ঠায় কার্যকারণ নীতি প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত বিষয়টির সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য জন স্টুয়ার্ট মিল উদ্ভাবিত নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণভিত্তিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিগুলোকে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সার্বিক সত্য প্রতিষ্ঠায় কার্যকারণ নীতি প্রয়োজন, কারণ কার্যকারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঘটনাই কারণ ছাড়া ঘটে না এবং একই কারণ সবসময় একই কার্য উৎপন্ন করে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নিয়মের সহায়তায় বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে একটি সার্বিক সাধারণ সত্যে বা সংশ্লেষক সার্বিক যুক্তিবাক্যে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ যুক্তিবিদ জে. এস. মিল প্রবর্তিত 'সহপরিবর্তন পদ্ধতি'কে নির্দেশ করে।
যে পদ্ধতিতে দুটি বিষয়ের মধ্যে পরিমাণের বা মাত্রার রাজ-বৃদ্ধি অনুযায়ী হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, তখন তাদের মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। একে সহপরিবর্তন পদ্ধতি বলে। মিলের ভাষায়, যদি কোনো ঘটনা অন্য একটি ঘটনার পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশেষভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে ঘটনাটি উক্ত ঘটনার কারণ বা কার্য অথবা অন্য কোনো কার্যকারণ সূত্রের সাথে জড়িত।
দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সাথে খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যায়। অর্থাৎ, একটি ঘটনার পরিমাণের পরিবর্তনের সাথে অপরটির পরিবর্তন সরাসরি যুক্ত। সুতরাং, এটি পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত সহপরিবর্তন পদ্ধতির যথার্থ দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ মিলের পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির 'অবশেষ পদ্ধতি' নির্দেশিত হয়েছে। ধানের মোট ওজন থেকে বস্তার ওজন বিয়োগ করে ধানের প্রকৃত ওজন ৫৮ কেজি নির্ণয় করা অবশেষ পদ্ধতির রূপ। নিচে এর সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জটিল ঘটনার বিশ্লেষণ: মিশ্র বা জটিল ঘটনার ক্ষেত্রে যেখানে অনেকগুলো কারণ একত্রে ক্রিয়াশীল থাকে, সেখানে জানা অংশগুলো বাদ দিয়ে অজ্ঞাত কারণ বা কার্যকে সহজে নির্ণয় করা যায়।
২. আবিষ্কারের সহজ উপায়: বিজ্ঞানের বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অবশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সাধিত হয়েছে। যেমন—নেপচুন গ্রহ আবিষ্কার এবং আর্গন গ্যাস আবিষ্কার এই পদ্ধতির প্রত্যক্ষ প্রয়োগের ফল।
৩. সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী: অন্যান্য পদ্ধতিতে বহু সংখ্যক দৃষ্টান্তে কার্যকারণ পরীক্ষা করতে হয়, কিন্তু অবশেষ পদ্ধতিতে পূর্বজ্ঞাত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সহজ বিয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা যায়।
৪. নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয়ের সমন্বয়: এ পদ্ধতিতে গাণিতিক বিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল পরিস্থিতি থেকে কোনো অবশিষ্টাংশের কার্যকারণ সম্পর্ক নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
অতএব, কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবশেষ পদ্ধতির এসব সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও