যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: পহেলা ফাল্গুনের শুরুতে আকস্মিকভাবে শুর হলো বৃষ্টির দিন। অসময়ে এমন বৃষ্টি এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। সবাই প্রকৃতির এরূপ প্রতিক্রিয়ায় প্রায় হতবাক। বৃষ্টির আমেজে শীতের শেষে এসে তাই আবারও শীত শুরু হলো।দৃশ্যকল্প-২: একজন রসায়নবিদ বিজ্ঞানাগারে জিঙ্ক ও সালফিউরিক এসিডের মিশ্রণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন প্রস্তুত করেন।

  1. ক)

    'কূটাভাস' শব্দটির অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'নিরীক্ষণ একটি সহজ সরল পদ্ধতি'- বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ আরোহের কোন আকারগত ভিত্তিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ যে বিষয়টির প্রতিফলন রয়েছে তার সুবিধা ও অসুবিধা বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কূটাভাস' শব্দটির অর্থ হলো আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী বা অসঙ্গতিপূর্ণ কিন্তু আসলে সত্য কোনো বক্তব্য বা ধারণা (Paradox)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ বা ঘটনাকে কোনো কৃত্রিম পরিবর্তন না ঘটিয়ে স্বাভাবিকভাবে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করাই হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণে কোনো বিশেষ গবেষণাগার, জটিল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষ কৃত্রিম পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন হয় না। যেকোনো সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পারিপার্শ্বিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এ কারণে নিরীক্ষণকে একটি সহজ-সরল পদ্ধতি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ আরোহের আকারগত ভিত্তি 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি' এবং 'কার্যকারণ নীতি'র প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে, বিশেষত এর আপাত ব্যতিক্রম বা প্রকৃতির বিচিত্র রূপকে প্রকাশ করে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পহেলা ফাল্গুনে আকস্মিক বৃষ্টি এবং এর ফলে পুনরায় শীত অনুভূত হওয়া। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুযায়ী প্রকৃতি সমপরিবেশে সমরূপ আচরণ করে। তবে প্রাকৃতিক কোনো আকস্মিক পরিবর্তন প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ নয়, বরং অন্য কোনো প্রাকৃতিক কার্যকারণেরই ফলাফল। আপাতদৃষ্টিতে প্রকৃতির এরূপ আচরণ অপ্রত্যাশিত মনে হলেও এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কার্যকারণ সম্পর্কের অধীন। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ আরোহের অন্যতম আকারগত ভিত্তি 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি' ও কার্যকারণ সূত্রের ধারণাকে তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ যুক্তিবিদ্যার আরোহের বস্তুগত ভিত্তি 'পরীক্ষণ' (Experimentation)-এর প্রতিফলন ঘটেছে, কারণ রসায়নবিদ বিজ্ঞানাগারে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে হাইড্রোজেন প্রস্তুত করেছেন। নিচে পরীক্ষণ পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

    সুবিধা:
    ১. পরিবেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: পরীক্ষণে গবেষক নিজের সুবিধা অনুযায়ী কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি ও পরিবর্তন করতে পারেন।
    ২. ঘটনার পুনরাবৃত্তি: প্রয়োজনে গবেষক একাধিকবার ঘটনাটির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফলাফল যাচাই করতে পারেন।
    ৩. সময় ও পরিস্থিতির স্বাধীনতা: প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য অপেক্ষা না করে যেকোনো সময় পরীক্ষণ সম্পন্ন করা যায়।
    ৪. সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতা: কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের কারণে পরীক্ষণলব্ধ ফলাফল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য হয়।

    অসুবিধা:
    ১. সীমিত ক্ষেত্র: সব ঘটনা গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি বা পরীক্ষা করা যায় না (যেমন: চন্দ্রগ্রহণ, ভূমিকম্প, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি)।
    ২. ব্যয়বহুল ও জটিল: পরীক্ষণের জন্য উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক উপাদানের প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
    ৩. সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত: মানুষের আবেগ, নৈতিক অনুভূতি বা সামাজিক আচরণের ওপর সরাসরি কৃত্রিম পরীক্ষণ চালানো সম্ভব বা নৈতিক নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন