মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রতিবর্তী ক্রিয়া কী?
- খ)(2)
মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এর গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এবং চিত্র-২ শারীরবৃত্তীর কাজে কী প্রভাব ফেলে? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মস্তিষ্কের সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া ঘটে, তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া (Reflex action) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখ খণ্ড থেকে নিঃসৃত বৃদ্ধি হরমোন বা গ্রোথ হরমোনের (সোমাটোট্রপিন) ক্ষরণের তারতম্যের কারণে মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয়। শৈশবকালে এই হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ হলে দেহের অস্থি ও পেশির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, ফলে মানুষ অস্বাভাবিক লম্বা বা দৈত্যাকৃতির (Gigantism) হয়। পক্ষান্তরে, শৈশবে এ হরমোনের নিঃসরণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে দেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং মানুষ খর্বাকৃতির বা বেঁটে (Dwarfism) হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যমূলক একক 'নিউরন' (Neuron)। নিউরনের গঠন প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১. কোষদেহ (Cell body বা Soma): এটি নিউরনের প্রধান কেন্দ্র। এটি প্লাজমামেনব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। কোষদেহে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি প্রভৃতি অঙ্গাণু বিদ্যমান যা কোষের বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ডেনড্রাইট (Dendrite): কোষদেহের চারপাশ থেকে শাখা-প্রশাখাযুক্ত যেসব ক্ষুদ্র তন্তু বের হয়, সেগুলোকে ডেনড্রাইট বলে। ডেনড্রাইটের মাধ্যমে সংবেদী বার্তা বা স্নায়ুপ্রবাহ অন্য নিউরন থেকে কোষদেহে প্রবেশ করে।
৩. অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন একক, অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ তন্তুকে অ্যাক্সন বলে। এর ভেতরের অংশকে অ্যাক্সোপ্লাজম এবং এর আবরণীকে অ্যাক্সোলেমা বলে। অ্যাক্সন সাধারণত মায়েলিন সিথ নামক একটি চর্বিজাতীয় স্তর দ্বারা আবৃত থাকে এবং এর শেষ প্রান্তে শাখা-প্রশাখা থাকে যাকে প্রান্তীয় গুচ্ছ (Terminal branches) বলা হয়। অ্যাক্সনের মাধ্যমে বার্তা কোষদেহ থেকে পরবর্তী নিউরন বা পেশিতে সঞ্চালিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো 'নিউরন' এবং চিত্র-২ হলো 'সাইন্যাপ্স' বা স্নায়ুসন্ধি। মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাজের নিয়ন্ত্রণে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক। নিম্নে এদের প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. স্নায়ুপ্রবাহ পরিবহন: নিউরন (চিত্র-১) গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুতাড়না (Nerve impulse) তৈরি করে এবং তা অ্যাক্সনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ-রাসায়নিক তরঙ্গের মতো বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায়। অপরদিকে, সাইন্যাপ্স (চিত্র-২) দুটি নিউরনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন- অ্যাসিটাইলকোলিন) নিঃসরণের মাধ্যমে বার্তাটি পরবর্তী নিউরনে অতিক্রম করায়।
২. কাজের প্রকৃতি: নিউরনের অভ্যন্তরে স্নায়ুবার্তা মূলত বৈদ্যুতিক সংকেত (Electrical signal) হিসেবে দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাইন্যাপ্সে এসে এই বার্তা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (Chemical transmission) পরিবর্তিত হয় এবং সাইন্যাপ্টিক ক্লেফট অতিক্রম করে।
৩. একমুখী প্রবাহ ও নিয়ন্ত্রণ: সাইন্যাপ্স নিশ্চিত করে যে স্নায়ুপ্রবাহ সর্বদা একমুখী (অ্যাক্সন থেকে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটে) সঞ্চালিত হবে। এছাড়া বিভিন্ন সাইন্যাপ্স স্নায়ুবার্তা সঞ্চালনে বাধা (Inhibition) দিতে পারে বা সহজতর (Facilitation) করতে পারে, যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে, নিউরন কেবল তার মধ্য দিয়ে প্রেরিত সংকেত যথাযথ গতিতে পরিবহন করে।
সুতরাং, নিউরন স্নায়ুসংকেত উৎপাদন ও বহনে শারীরবৃত্তীয় ভিত্তি প্রদান করে এবং সাইন্যাপ্স সেই সংকেতের সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক অভিমুখী সঞ্চালন নিশ্চিত করে মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাজ সুচারুভাবে পরিচালিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও