জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট তৃণভোজী প্রাণীর দর্শন কৌশল আলো দ্বারা এবং রূপান্তর হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

  1. ক)

    পোর্টাল শিরাতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    হাইড্রার সিলেন্টেরনকে পরিপাক সংবহন গহ্বর বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উল্লেখিত রাসায়নিক বস্তু কীভাবে শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমটি সম্পন্ন করে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত প্রাণীটির ক্ষেত্রে দর্শনকৌশল আলো দ্বারা প্রভাবিত কীভাবে?বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শিরাতন্ত্র রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা থেকে উৎপত্তি লাভ করে কোনো মধ্যবর্তী অঙ্গে প্রবেশ করে পুনরায় কৈশিক জালিকায় পরিণত হয় এবং সরাসরি হৃৎপিণ্ডে রক্ত বহন করে না, তাকে পোর্টাল শিরাতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইড্রার দেহের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একমাত্র ফাঁপা গহ্বরটিকে সিলেন্টেরন (Coelenteron) বলে। এই গহ্বরে খাদ্য গ্রহণ ও বহিঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন হয়, আবার একই সাথে এর মাধ্যমে পরিপাককৃত খাদ্যসার ও পানি দেহের বিভিন্ন অংশে সংবাহিত হয়। সিলেন্টেরন পরিপাক ও সংবহন উভয় কাজেই অংশ নেয় বলে একে পরিপাক সংবহন গহ্বর (Gastrovascular cavity) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট তৃণভোজী প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর উল্লিখিত শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমটি হলো 'রূপান্তর' (Metamorphosis), যা বিভিন্ন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

    ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তরে অংশগ্রহণকারী প্রধান হরমোনগুলোর ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ব্রেন হরমোন বা প্রোথোরাসিকোট্রপিক হরমোন (PTTH): মস্তিষ্কের নিউরোসিক্রেটরি কোষ থেকে এটি ক্ষরিত হয়ে প্রোথোরাসিক গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
    ২. একডাইসন (Ecdyson): প্রোথোরাসিক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত এই হরমোন ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফের ত্বকমোচন বা মোল্টিং (Moulting) ত্বরান্বিত করে এবং বৃদ্ধির ধাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৩. জুভেনাইল হরমোন (Juvenile Hormone): কর্পোরা অ্যাল্যাটা (Corpora allata) গ্রন্থি থেকে এটি ক্ষরিত হয়। এটি নিম্ফের শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে।

    নিম্ফ দশার বিভিন্ন ধাপে জুভেনাইল হরমোনের মাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে এবং একডাইসনের প্রভাবে খোলস মোচনের মাধ্যমে প্রাণীটি ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ে রূপান্তরিত হয়। এভাবে হরমোনসমূহের পারস্পরিক ক্রিয়ায় রূপান্তর কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর দর্শন অঙ্গ হলো পুঞ্জাক্ষি (Compound eye)। ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির দর্শনকৌশল ও প্রতিবিম্ব গঠন আলোর তীব্রতার উপর সরাসরি নির্ভরশীল।

    আলোর তীব্রতার ভিত্তিতে ঘাসফড়িংয়ের দর্শনকৌশল দুটি পদ্ধতিতে ঘটে থাকে:
    ১. উজ্জ্বল আলোতে অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব: তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ পিগমেন্ট আবরণী ও রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে ওমাটিডিয়ামগুলোকে পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখে। এর ফলে কর্নিয়ার ওপর কেবল উলম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছায় এবং প্রতিটি ওমাটিডিয়াম বস্তুর পৃথক পৃথক অংশের স্পষ্ট ক্ষুদ্র প্রতিবিম্ব গঠন করে। সবগুলো অংশ মিলে সামগ্রিকভাবে একটি খণ্ড খণ্ড মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

    ২. মৃদু বা স্তিমিত আলোতে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব: কম বা মৃদু আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী সংকুচিত হয়ে ওমাটিডিয়ামের অগ্র ও পশ্চাৎ প্রান্তে সরে যায়। ফলে একটি ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া দিয়ে তীর্যকভাবে প্রবেশ করা আলো পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমেও পৌঁছাতে পারে। এর ফলে একাধিক ওমাটিডিয়ামে তৈরি প্রতিবিম্ব পরস্পরের ওপর উপরিপাতিত বা সমাপতিত হয়ে একটি অস্পষ্ট কিন্তু সামগ্রিক প্রতিবিম্ব গড়ে তোলে।

    সুতরাং, আলোর উজ্জ্বল ও মৃদু অবস্থার তারতম্যের কারণে পিগমেন্ট আবরণীর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমেই ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে দর্শনকৌশলটি বিশেষভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন