যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রতিবর্তনের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    () বাক্যের আবর্তন হয় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ কোন অনুমানের নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-২ এর যুক্তিটির বৈধতা যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদকে সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদ রেখে, বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ করে এবং অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণের পরিবর্তন করা হয়, তাকে প্রতিবর্তন (Obversion) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নে উল্লেখিত ফাঁকা বন্ধনীর স্থানে যুক্তিশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী 'O' বাক্য (বিশেষ নঞর্থক বাক্য) বোঝানো হয়েছে। 'O' বাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়, কারণ আবর্তনের একটি মৌলিক নিয়ম হলো— যুক্তিবাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যায় না। 'O' বাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ ব্যাপ্য। যদি 'O' বাক্যের আবর্তন করা হয় এবং সিদ্ধান্তও একটি 'O' বাক্য রাখা হয়, তবে মূল যুক্তিবাক্যের অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তে বিধেয় স্থানে বসে ব্যাপ্য হয়ে যায়, যা নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আবার সিদ্ধান্ত হিসেবে 'I' বাক্য নিলে গুণের পরিবর্তন ঘটে, যা আবর্তনের নিয়মের বিরোধী। তাই 'O' বাক্যের বৈধ আবর্তন সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ এ অমাধ্যম অবরোহ অনুমানের অন্তর্গত 'প্রতিবর্তন' (Obversion) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    প্রতিবর্তনের নিয়মগুলো হলো:
    ১. মূল যুক্তিবাক্য বা প্রতিবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তের (প্রতিবর্তিতের) উদ্দেশ্য পদ হবে।
    ২. যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ হবে।
    ৩. গুণের পরিবর্তন হবে (অর্থাৎ সদর্থক থাকলে নঞর্থক, নঞর্থক থাকলে সদর্থক হবে)।
    ৪. পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হবে না (সার্বিক থাকলে সার্বিক, বিশেষ থাকলে বিশেষ থাকবে)।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ দেওয়া আছে:
    যুক্তিবাক্য: 'কিছু মানুষ নয় শান্তিপ্রিয়।' (O বাক্য - বিশেষ নঞর্থক)
    সিদ্ধান্ত: 'কিছু মানুষ হয় অ-শান্তিপ্রিয়।' (I বাক্য - বিশেষ সদর্থক)

    এখানে উভয় বাক্যের উদ্দেশ্য পদ এক ('মানুষ'), যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ 'শান্তিপ্রিয়'-এর বিরুদ্ধ পদ 'অ-শান্তিপ্রিয়' সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে বসেছে, নঞর্থক সংযোজক 'নয়' পরিবর্তিত হয়ে সদর্থক 'হয়' হয়েছে এবং পরিমাণগতভাবে উভয়ই বিশেষ বাক্য হিসেবে অপরিবর্তিত রয়েছে। সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ প্রতিবর্তনের সকল নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ এর যুক্তিটি অবৈধ। এটি আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে 'অবৈধ সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি' বা 'অব্যাপ্য বিধেয় দোষ'-এ দুষ্ট।

    দৃষ্টান্ত-২ এর যুক্তিটি হলো:
    যুক্তিবাক্য: 'সকল দেশপ্রেমিক হয় নাগরিক' (A বাক্য)
    সিদ্ধান্ত: 'সকল নাগরিক হয় দেশপ্রেমিক' (A বাক্য)

    এখানে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান সিদ্ধান্তের মধ্যে পারস্পরিক পরিবর্তন করে আবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আবর্তনের চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, যে পদ যুক্তিবাক্যে ব্যাপ্য হয়নি, সে পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যায় না।

    যুক্তিবাক্যটি একটি 'A' বাক্য (সার্বিক সদর্থক)। আমরা জানি, 'A' বাক্যের কেবল উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হয়, কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য থাকে। ফলে যুক্তিবাক্যে 'নাগরিক' পদটি বিধেয় হিসেবে থাকায় এটি অব্যাপ্য।

    কিন্তু সিদ্ধান্তে যুক্তিটিকে পুনরায় 'A' বাক্য হিসেবে গ্রহণ করায় 'নাগরিক' পদটি সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য স্থানে চলে এসে ব্যাপ্য হয়ে গেছে। অর্থাৎ যুক্তিবাক্যের একটি অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা হয়েছে, যা আবর্তনের মৌলিক নিয়ম ভঙ্গ করে। বাস্তবিকভাবেও সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক হলেও সকল নাগরিক দেশপ্রেমিক নাও হতে পারে।

    অতএব, 'A' বাক্যের আবর্তন নিয়ম অনুযায়ী সীমিতভাবে 'I' বাক্যে ('কিছু নাগরিক হয় দেশপ্রেমিক') করতে হয়। দৃষ্টান্ত-২ এ 'A' বাক্যের সরল আবর্তন করার কারণে যুক্তিটি সম্পূর্ণ অবৈধ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন