অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিজাম সাহেব তার মোট আয় হতে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকী টাকার উপর (২০২৪-২০২৫) অর্থ বছরে নির্দিষ্ট হারে সরকারকে কর প্রদান করেন। এই করের ভার তিনি কোনোভাবেই অন্যের ওপর চাপাতে পারেন না।
- ক)(1)
কর কাকে বলে?
- খ)(2)
VAT কে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিজাম সাহেব এর প্রদানকৃত করের ধরন আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
মুদ্রাস্ফীতি রোধ ও নাগরিক চেতনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত করের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ প্রতিদান বা বিশেষ সুবিধার প্রত্যাশা না করে নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে, তাকে কর বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হলো একটি পরোক্ষ কর, কারণ এর প্রাথমিক ভার এবং চূড়ান্ত বোঝা ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে। সরকার উৎপাদনকারী বা বিক্রেতার ওপর ভ্যাট আরোপ করলেও তারা এই করের বোঝা দ্রব্যের মূল্যের সাথে যোগ করে চূড়ান্ত ক্রেতা বা ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়। অর্থাৎ করের আপাত ভার ও চূড়ান্ত ভার একই ব্যক্তি বহন করে না বিধায় ভ্যাটকে পরোক্ষ কর বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিজাম সাহেবের প্রদানকৃত করের ধরনটি হলো ‘প্রত্যক্ষ কর’ (বিশেষভাবে ‘আয়কর’)।
যে করের প্রাথমিক ভার এবং চূড়ান্ত আর্থিক বোঝা একই ব্যক্তি বহন করে এবং যা অন্যের ওপর চাপানো যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, নিজাম সাহেব তাঁর নির্দিষ্ট করমুক্ত আয়ের (৩,৫০,০০০ টাকা) অতিরিক্ত আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে সরকারকে কর দেন এবং এই করের ভার তিনি কোনোভাবেই অন্যের ওপর চাপাতে পারেন না।
প্রত্যক্ষ করের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. করের বোঝা হস্তান্তরযোগ্য নয়: করদাতা নিজে ছাড়া অন্য কেউ এই করের বোঝা বহন করে না।
২. সামর্থ্য অনুযায়ী ধার্য: ব্যক্তির আয় ও কর প্রদান ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রগতিশীল হারে এই কর ধার্য করা হয়।
৩. নিশ্চিত ও প্রত্যক্ষ: করদাতা স্পষ্টভাবে জানেন তিনি কত টাকা এবং কখন সরকারকে কর প্রদান করছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত করটি হলো ‘প্রত্যক্ষ কর’ বা ‘আয়কর’। মুদ্রাস্ফীতি রোধ এবং নাগরিক চেতনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আয়করের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মুদ্রাস্ফীতি রোধে ভূমিকা:
মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ হলো বাজারে অর্থের অতিরিক্ত সরবরাহ ও সামগ্রিক চাহিদার বৃদ্ধি। সরকার যখন প্রত্যক্ষ কর বা আয়করের হার বৃদ্ধি করে, তখন জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। ফলে মানুষের সামগ্রিক ভোগব্যয় ও পণ্যের চাহিদা কমে আসে। সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রশমিত হয়।২. নাগরিক চেতনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা:
প্রত্যক্ষ কর সরাসরি নাগরিকের পকেট থেকে যায় বলে করদাতা সচেতন থাকেন যে তাঁর কষ্টের উপার্জিত অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হচ্ছে। এর ফলে করদাতার মধ্যে সরকারি ব্যয়ের সদ্ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়। নাগরিকরা নিজেদের দেশের অংশীদার ভাবতে শুরু করেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিক অধিকার আদায়ে অধিক সচেতন হন।পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর একদিকে যেমন দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, অন্যদিকে তা একটি দেশের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি দায়িত্বশীল করে নাগরিক চেতনা জাগ্রত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও