হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রত্যাহার অর্থ কী?
- খ)(2)
নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া; বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভেতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে।
- খ)
নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটি হলো ধ্যান, যা অষ্টাঙ্গযোগের সপ্তম ধাপ। মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে, তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর যোগী ঈশ্বরোপম হতে পারেন। ধ্যানে যোগীর দেহ, শ্বাস-প্রশ্বাস, ইন্দ্রিয়, মন, বিচারশক্তি ও অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায়। তিনি এক সচেতন অতীন্দ্রিয় অবস্থায় চলে যান এবং পরম আনন্দ ছাড়া আর কিছু অনুভব করেন না। ধারণা হলো ধ্যানের ভিত্তি।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত আসনটি হলাসন।
হলাসনের ধারণা: 'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহের ভঙ্গি অনেকটা লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। চিত্রে দেখা যায়, একজন চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি উপরে তুলে মাথার পেছনে নিয়ে গেছেন, যা হলাসনের ভঙ্গি।
অনুশীলন পদ্ধতি:
১. প্রথমে পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে এবং হাত দুটো সোজা করে শরীরের দুই পাশে রাখতে হবে।
২. এরপর নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে।
৩. পা মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব নিয়ে যেতে হবে, যাতে পায়ের আঙুলগুলো মাটি স্পর্শ করে।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
৫. তারপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে আসনটি তিনবার অনুশীলন করতে হয়।তবে যাদের আমাশয়, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা ও যকৃৎ অস্বাভাবিক বড়, তাদের এই আসন করা উচিত নয়।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত আসনটি বৃক্ষাসন। চিত্রে একজন এক পায়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত জোড় করে মাথার ওপর তুলে রেখেছেন, যা বৃক্ষাসনের ভঙ্গি। এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো স্থির ও সোজা হয় বলে একে বৃক্ষাসন বলে।
অনুশীলনে এক পায়ের গোড়ালি অপর পায়ের ঊরুমূলে রেখে এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হয় এবং নমস্কারের ভঙ্গিতে হাত জোড় করে মাথার ওপর নিতে হয়। নিয়মিত অনুশীলনে এর প্রভাব নিম্নরূপ।
১. শারীরিক ভারসাম্য ও পেশির দৃঢ়তা: এ আসনে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়, পায়ে জোর আসে এবং চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে।
২. মেরুদণ্ড ও অঙ্গের গঠন: কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বাড়ে এবং ঊরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে। হাত ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।
৩. রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্র: হাঁটু, কনুই ও বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রন্থিগুলো সবল ও নমনীয় হয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ: পায়ের ব্যথায় বিশেষ উপকার হয় এবং বাত রোধ হয়। যাদের হাত-পা কাঁপে বা পা দুর্বল, তাঁদের খুব উপকার হয়। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে পায়ের ধমনীতে চর্বিজাতীয় পদার্থ আথেরোমা জমা রোধ হয়, ফলে থ্রম্বোসিসের আশঙ্কা কমে।সুতরাং, বৃক্ষাসন শারীরিক ভারসাম্য, পেশির শক্তি ও রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখে এবং যোগসাধনায় সহায়তা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও