হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নিষ্কৃতি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পূর্ব দিকে মুখ করে দেবতার উদ্দেশ্যে স্তব-স্তুতি পাঠ করে প্রণাম জানায়। সে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সে ছোট, বড় বা সময়বয়সীদের সাথেও সুন্দর ব্যবহার করে। কেউ তার ব্যবহারে কষ্ট পায় এমন কাজ সে কখনো করে না। এ কারণে সমাজ তথা প্রতিবেশীদের কাছে নিষ্কৃতি খুবই প্রিয়।

  1. ক)

    অষ্টাঙ্গ প্রণাম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নিষ্কৃতির আচরণে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়টি লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিষ্কৃতির কাজের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জানু, পদ, হস্ত, বক্ষ, বুদ্ধি, শির, বাক্য ও দৃষ্টি—এই আটটি অঙ্গ ব্যবহার করে যে প্রণাম করা হয়, তাকে অষ্টাঙ্গ বা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।

  2. খ)

    ‘আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ’ কথাটির অর্থ হলো নিজের মুক্তি এবং জগতের কল্যাণের জন্য। এর মর্মার্থ হলো, ধর্মসাধনার লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত মোক্ষলাভ নয়, মানবসেবা ও জীবের কল্যাণও। পাঠ্যবইয়ে বিবেকানন্দ ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন। অর্থাৎ ঈশ্বরসাধনার সাথে সেবার মাধ্যমে সমাজের উপকার করাই আদর্শ জীবন।

  3. গ)

    নিষ্কৃতির আচরণে পাঠ্যপুস্তকের শিষ্টাচার বিষয়টি লক্ষ করা যায়।

    ধারণা : নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। এটি মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং ধর্মের অঙ্গ। মাতা-পিতা ও গুরুজনকে প্রণাম জানানোর মাধ্যমে প্রকাশ পায় ভক্তি বা শ্রদ্ধা। সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানানো এবং ছোটদের স্নেহ করাও শিষ্টাচার। দেব-দেবীকে স্তব-স্তুতি ও প্রণামমন্ত্র উচ্চারণ করে প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়েও ধর্মাচারে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : নিষ্কৃতি ভোরে উঠে পূর্ব দিকে মুখ করে দেবতাদের উদ্দেশে স্তব-স্তুতি পাঠ করে প্রণাম জানায়, যা ধর্মাচারে শিষ্টাচারের প্রকাশ। সে গুরুজনদের শ্রদ্ধা জানায় এবং ছোট, বড় ও সমবয়সী সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে। কেউ কষ্ট পায় এমন কাজ সে করে না। এসবই শিষ্টাচারের লক্ষণ।

    অতএব, নিষ্কৃতির আচরণে শিষ্টাচারের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    নিষ্কৃতির কাজ অর্থাৎ শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    ধারণা : শিষ্টাচার একটি নৈতিক মূল্যবোধ, যার দ্বারা আমরা মানুষের মন জয় করতে পারি। প্রণাম বা নমস্কারের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে, কারণ জীবের মধ্যে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন এবং সেই ব্রহ্মকেই প্রণাম করা হয়।

    ১. সামাজিক সম্পর্ক ও জনপ্রিয়তা : নিষ্কৃতি সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে, তাই প্রতিবেশীদের কাছে সে প্রিয়। এভাবে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। ভদ্র আচরণ সমাজে বিবাদ কমায়।
    ২. নৈতিক মূল্যবোধ গঠন : নিষ্কৃতিকে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। ‘আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়’—নিজে আচরণ করে অন্যকে শেখানো যায়। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে পড়ে।
    ৩. বড়দের প্রতি সম্মান ও শৃঙ্খলা : গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এটি সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
    ৪. রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রভাব : শিষ্ট ও নৈতিক নাগরিক রাষ্ট্রের সম্পদ। যে নাগরিক কাউকে কষ্ট দেয় না, অন্যের মতামত ও অধিকারকে সম্মান করে, সে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এতে রাষ্ট্রে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

    সুতরাং, নিষ্কৃতির মতো শিষ্টাচারী ব্যক্তি সমাজে সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনকেও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন