হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
- ক)(1)
যোগসূত্রের প্রণেতা কে?
- খ)(2)
প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ না করাকে কী বলে?
- গ)(3)
চিত্র-১ এর অনুশীলন কৌশল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-২ এর আসনটি নিয়মিত অনুশীলন করলে আমাদের শরীরে কী ধরনের উপকার হবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যোগসূত্রের প্রণেতা মহর্ষি পতঞ্জলি।
- খ)
প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তু গ্রহণ না করাকে অপরিগ্রহ বলে। এটি অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম অঙ্গ যমের পাঁচটি বিধির একটি। অপরিগ্রহ মানে অপ্রয়োজনীয় ও প্রয়োজনের বেশি জিনিস গ্রহণ না করা। জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম ধন-বস্ত্র গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকা এবং ঈশ্বর আরাধনাকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য মনে করাই অপরিগ্রহ।
- গ)
চিত্র-১ এ বৃক্ষাসন দেখানো হয়েছে, যেখানে এক পায়ে দাঁড়িয়ে হাত দুটি জোড় করে মাথার উপর রাখা হয়েছে।
যোগসাধনায় অষ্টাঙ্গযোগের তৃতীয় অঙ্গ আসন। এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো দেখায় বলে একে বৃক্ষাসন বলে।
অনুশীলন কৌশল:
১. প্রথমে দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে লেগে থাকবে।
২. এরপর ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বাঁ ঊরুমূলে রাখতে হবে, পায়ের পাতা ঊরুর সাথে লেগে থাকবে এবং আঙুল নিচের দিকে ফেরানো থাকবে।
৩. কেবল বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে নমস্কারের ভঙ্গিতে তালু দুটি জোড়া করে বুকের কাছে আনতে হবে। তারপর জোড়া তালু মাথার উপর সোজা করে তুলতে হবে, যেমনটি চিত্রে দেখা যায়।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে নিশ্চল হয়ে ১০ সেকেন্ড থাকতে হবে। পরে হাত নামিয়ে আগের মতো দুই পায়ে দাঁড়াতে হবে।
৫. একইভাবে ডান পায়ে দাঁড়িয়ে আসনটি করতে হবে। শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে এটি তিনবার করতে হবে। অভ্যস্ত হলে সময় ধীরে ধীরে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যায়।এভাবে নিয়ম মেনে অনুশীলন করলে বৃক্ষাসন ঠিকভাবে আয়ত্ত করা যায়।
- ঘ)
চিত্র-২ এর আসনটি হলাসন। 'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি জোড়া ও সোজা অবস্থায় তুলে মাথার পেছনে নিয়ে আঙুল মাটিতে ঠেকানো হয়। এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থেকে শবাসনে বিশ্রাম নিয়ে তিনবার করতে হয়।
নিয়মিত অনুশীলনে শরীরে বহুমুখী উপকার হয়:
১. মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর উপকার: হলাসন মেরুদণ্ডকে সুস্থ, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক রাখে। মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র এবং মেরুদণ্ডের দুই পাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়। পিঠের ব্যথা দূর হয় এবং শক্ত কাঁধেও উপকার হয়।
২. পরিপাক ও অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের রোগ দূর হয়। প্লীহা, যকৃৎ ও মূত্রাশয়ের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
৩. গ্রন্থির সক্রিয়তা: থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ও টনসিলের মতো গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়।
৪. দেহ সুঠাম রাখা ও রোগ প্রতিরোধ: পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম হয়। ডায়াবেটিস, বাত ও সায়াটিকার মতো রোগের সম্ভাবনাও কমে।তবে আমাশয়, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এবং প্লীহা বা যকৃৎ অস্বাভাবিক বড় হলে এই আসন করা উচিত নয়।
সুতরাং, নিয়মিত হলাসন অনুশীলন মেরুদণ্ড, পরিপাকতন্ত্র ও গ্রন্থির সুস্থতা নিশ্চিত করে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে বিশেষ উপকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও