বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

আবির তার মামার সাথে পুরোনো একটি শহর দেখতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সে লক্ষ করলো শহরটি উঁচু স্তম্ভের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। শহরটির একপাশে একটি নগর দুর্গ রয়েছে এবং শহরটি উঁচু প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত। শহরটির অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল।

  1. ক)

    পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন কারা?

    (1)
  2. খ)

    নবোপলীয় যুগ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আবিরের ভ্রমণকৃত শহরটির সঙ্গে কোন সভ্যতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ইতিহাসে উক্ত সভ্যতাটির অবদান প্রশংসনীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    গ্রিক বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন।

  2. খ)

    নতুন পাথরের যুগকে নবোপলীয় যুগ (Neolithic Age) বলা হয়। পাথর যুগের তিনটি পর্যায়ের শেষটি এটি। এ যুগে মানুষ পাথরের হাতিয়ার ঘষে মসৃণ ও ধারালো করতে শেখে। এ সময়ের শেষভাগে উদ্যান কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে মানুষ স্থায়ী আবাস গড়ে তোলে এবং নদী অববাহিকায় কৃষিভিত্তিক সমাজের সূচনা হয়। এভাবেই মানব সভ্যতার ভিত্তি তৈরি হয়।

  3. গ)

    আবিরের ভ্রমণকৃত শহরটির সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে শহরটি উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত, একপাশে নগর দুর্গ আছে, শহর উঁচু প্রাচীরে সুরক্ষিত এবং অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা নগরীর বৈশিষ্ট্যও একই রকম।

    ১. বন্যা থেকে রক্ষার জন্য শহরগুলো উঁচু ভিত্তির ওপর গড়া হতো।
    ২. শহরের পশ্চিমে উঁচু স্থানে দুর্গ বা সিটাডেল ছিল এবং নিরাপত্তার জন্য শহরের চারপাশে প্রাচীর ছিল।
    ৩. সিন্ধু অববাহিকার উর্বর জমিতে চাষ হতো বলে অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর।

    এই সাদৃশ্য থেকে বোঝা যায়, শহরটি সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনার অনুরূপ।

  4. ঘ)

    সিন্ধু সভ্যতা বিশ্ব ইতিহাসে বিশেষ করে নগর পরিকল্পনা ও সামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সুতরাং, এর অবদান প্রশংসনীয় বলা যায়। এর পক্ষে যুক্তি হলো—

    ১. নগর পরিকল্পনা: মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পার শহরগুলো সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিল। রাস্তাগুলো সোজা ও প্রশস্ত ছিল এবং পোড়া ইটের বাড়িঘর তৈরি হতো।
    ২. পয়ঃনিষ্কাশন ও জনস্বাস্থ্য: শহরে ঢাকনাযুক্ত নালা-নর্দমার মাধ্যমে ময়লা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। এ ব্যবস্থা তাদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সচেতনতার প্রমাণ।
    ৩. স্থাপত্য: মহেঞ্জোদাড়োর বৃহৎ স্নানাগার ও শস্যাগার তাদের স্থাপত্য দক্ষতার নিদর্শন।
    ৪. অর্থনীতি ও শিল্প: কৃষি, বয়ন, মৃৎশিল্প ও ধাতব শিল্পে তারা দক্ষ ছিল এবং পরিমাপ পদ্ধতি ব্যবহার করত।

    অতএব, নগরায়ণ, জনস্বাস্থ্য ও শিল্পে অগ্রগতির কারণে সিন্ধু সভ্যতার অবদান প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন