পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৯৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে। প্রত্যেকটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সরকারব্যবস্থা আছে। আবার এই সরকারেরও বিভিন্ন রূপ থাকে। তদ্রূপে 'P' ও 'Q' দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। 'P' রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত। জনগণই 'P' রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস। অপরদিকে 'Q' রাষ্ট্রটির শাসনক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ী দল এ মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে থাকে।

  1. ক)

    এককেন্দ্রীক সরকার কী?

    (1)
  2. খ)

    নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    'P' রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে সকল অসুবিধা আছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    Q রাষ্ট্রটিতে যে শাসনব্যবস্থা প্রচলিত তার গুণাগুণ বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে শাসনব্যবস্থায় সকল শাসনক্ষমতা একটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

  2. খ)

    যে রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টের হাতে থাকে, তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলে। এখানে রাজার ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন, যুক্তরাজ্যে রাজা বা রানি আছেন, কিন্তু শাসনকার্য পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা।

  3. গ)

    'P' রাষ্ট্রে শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে, অর্থাৎ এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। পাঠ্যবইয়ের আলোকে গণতন্ত্রের অসুবিধাগুলো নিম্নরূপ।

    ১. অজ্ঞ ও অযোগ্যের শাসন: জনগণ সবাই শিক্ষিত বা রাজনীতি-সচেতন নয়, তাই অযোগ্য ব্যক্তিও নির্বাচিত হতে পারেন।
    ২. ব্যয়বহুল: নির্বাচন ও সংসদ পরিচালনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।
    ৩. সিদ্ধান্তে বিলম্ব: সবার মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে, ফলে জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
    ৪. দলাদলি ও দুর্নীতি: দলীয় কোন্দল, ক্ষমতার লোভ ও অর্থের প্রভাব গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

  4. ঘ)

    'Q' রাষ্ট্রে মন্ত্রিসভার হাতে শাসনক্ষমতা ন্যস্ত এবং জনগণের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে। এটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা। এর গুণাবলি নিম্নরূপ।

    ১. দায়িত্বশীল সরকার: মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়ী থাকে এবং অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা যায়, ফলে সরকার জনগণের প্রতি সচেতন থাকে।
    ২. আইন ও শাসন বিভাগের সহযোগিতা: মন্ত্রীরা সংসদ সদস্য হওয়ায় দুই বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকে এবং আইন প্রণয়ন সহজ হয়।
    ৩. বিরোধী দলের ভূমিকা: শক্তিশালী বিরোধী দল সরকারের ভুল ত্রুটি তুলে ধরে ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে।
    ৪. পরিবর্তনশীলতা: প্রয়োজনে সরকার পরিবর্তন করা যায়, ফলে স্বৈরাচারের সম্ভাবনা কম।

    তবে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মন্ত্রিসভার স্বেচ্ছাচারী হওয়ার আশঙ্কাও আছে। তবুও আমার মতে, সংসদীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহির দিক থেকে একটি কার্যকর ব্যবস্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন