ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: ইছাপুর গ্রামের যুব পরিষদের উদ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথির আলোচনায় মাওলানা ইমাদ উদ্দীন একজন মুসলিম মনিষীর জীবনী আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, তিনি এমন এক মহানব ছিলেন যাঁর সংকলিত গ্রন্থটিকে আল কোরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দৃশ্যপট-২: সুলতানপুর গ্রামের মসজিদ কমিটির উদ্যোগে “মাসয়ালা-মাসাইল শিক্ষা” বিষয়ক সেমিনারে বিশেষ অতিথি মাওলানা ছালিক আহমদ তাঁর আলোচনার এক পর্যায়ে একজন মনিষীর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনের তত্ত্বকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সহজ করে জনসাধারণের জন্য তুলে ধরেন। এ জন্য সরকারপ্রধান তাকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে চাইলে তিনি তা নিতে রাজি হননি। যার ফলে তিনি অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন।

  1. ক)

    জিহাদ কী?

    (1)
  2. খ)

    “আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।”—কথাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ প্রধান অতিথির আলোচনায় ইঙ্গিতকৃত মনীষীকে চিহ্নিত করে জ্ঞানের ক্ষেত্রে তার অবদান ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ বিশেষ অতিথির আলোচনায় তোমার পাঠ্যবইয়ের যে মনীষীর মিল পাওয়া যায় তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার অবদান বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহর পথে জুলুম-অত্যাচার দূর করা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা-সাধনা করাকে জিহাদ বলে।

  2. খ)

    মক্কা বিজয়ের দিন মহানবি (স) তাঁকে ও মুসলমানদের নির্যাতনকারী কুরাইশদের উদ্দেশে বলেন, 'আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত।' এতে তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন এবং কোনো প্রতিশোধ নেননি। এটি মানবতা ও ক্ষমার এক অনন্য নজির, যা তাঁর উদারতা ও দয়ার প্রমাণ।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত মনীষী ইমাম বুখারি (র)। তাঁর সংকলিত গ্রন্থ সহিহ আল-বুখারি আল-কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ।

    জ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান: তিনি দীর্ঘ ষোল বছর পরিশ্রম করে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই করে সহিহ হাদিস সংকলন করেন। বহু দেশ ভ্রমণ করে তিনি হাদিস সংগ্রহ করেন এবং বর্ণনাকারীদের সততা ও স্মৃতিশক্তি কঠোরভাবে যাচাই করেন। তাঁর এই কাজ হাদিস সংরক্ষণ ও জাল হাদিস প্রতিরোধে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এর আলোচনায় ইমাম আবু হানিফা (র) এর মিল পাওয়া যায়। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও হানাফি মাযহাবের ইমাম।

    অবদান:
    ১. ফিকহ সংকলন বোর্ড: তিনি বিশিষ্ট শিষ্যদের নিয়ে একটি পরামর্শ পরিষদ গঠন করেন, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে মাসয়ালার সমাধান লিপিবদ্ধ হতো। এতে ইসলামি আইন সহজ ও সুশৃঙ্খল হয়।
    ২. কিয়াস ও ইজতিহাদ: কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার পাশাপাশি কিয়াসের মাধ্যমে নতুন সমস্যার সমাধান দেন।
    ৩. ন্যায়নিষ্ঠা: শাসকের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় পদ (বিচারকের দায়িত্ব) গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তাঁকে কারাবরণ ও নির্যাতন সইতে হয়।

    সুতরাং, ইমাম আবু হানিফা (র) ইসলামি আইনশাস্ত্রের প্রাণপুরুষ, যাঁর অবদান ও আত্মত্যাগ আজও প্রেরণার উৎস।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন