যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব আহসান ও জনাব রশিদ একটি নামকরা কলেজের শিক্ষক। তারা একদিন পার্কে হাঁটতে হাঁটতে কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করছিলেন। জনাব আহসান বললেন, আমাদের কলেজের "সকল শিক্ষার্থী হয় মেধাবী"। এইকথা শুনে জনাব রশিদ বললেন, "শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি"।

  1. ক)

    একটি যুক্তিবাক্যের কয়টি অংশ?

    (1)
  2. খ)

    "সব বাক্য যুক্তিবাক্য নয়"- কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব আহসানের বক্তব্যের গঠন প্রক্রিয়া পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রশিদ ও জনাব আহসানের বক্তব্যের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাকরণে মনের যেকোনো ভাব বা অনুভূতি প্রকাশক শব্দসমষ্টিকেই বাক্য বলা যায়, যেমন— আদেশ, উপদেশ, প্রার্থনা, বিস্ময়সূচক বা জিজ্ঞাসাসূচক বাক্য। কিন্তু যুক্তিবিদ্যায় কেবল বর্ণনামূলক বা বিবৃতিমূলক বাক্য যা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে এবং যাতে উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সুস্পষ্ট সংযোজক থাকে, তাকেই যুক্তিবাক্য বলে। প্রশ্নবোধক, ইচ্ছাসূচক বা আদেশসূচক বাক্য সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করা যায় না বলে সব সাধারণ বাক্য যুক্তিবাক্য হতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব আহসানের বক্তব্যটি হলো: "সকল শিক্ষার্থী হয় মেধাবী"। এটি যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী একটি আদর্শ বা প্রমিত আকারের যুক্তিবাক্য।

    একটি আদর্শ যুক্তিবাক্যের তিনটি মৌলিক অংশ থাকে:
    ১. উদ্দেশ্য পদ (Subject): যার সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়। জনাব আহসানের বক্তব্যে 'শিক্ষার্থী' হলো উদ্দেশ্য পদ।
    ২. বিধেয় পদ (Predicate): উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়। এখানে 'মেধাবী' হলো বিধেয় পদ।
    ৩. সংযোজক (Copula): যা উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপন করে। এখানে 'হয়' হলো সদর্থক সংযোজক।
    এছাড়া পরিমাণের দিক থেকে বাক্যটিকে সার্বিক করার জন্য 'সকল' পরিমাণক (Quantifier) ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং, বাক্যটির গঠন কাঠামো হলো: পরিমাণক (সকল) + উদ্দেশ্য (শিক্ষার্থী) + সংযোজক (হয়) + বিধেয় (মেধাবী)। এটি একটি সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব আহসানের বক্তব্যটি একটি যুক্তিবাক্য, অপরদিকে জনাব রশিদের বক্তব্যটি একটি সাধারণ ব্যাকরণিক বাক্য। নিম্নে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কাঠামোগত পার্থক্য: জনাব আহসানের বক্তব্য ("সকল শিক্ষার্থী হয় মেধাবী") যুক্তিবিদ্যার কাঠামো মেনে গঠিত, যেখানে উদ্দেশ্য ('শিক্ষার্থী'), বিধেয় ('মেধাবী') এবং বর্তমান কালের সংযোজক ('হয়') সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, জনাব রশিদের বক্তব্যে ("শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি") কোনো সুস্পষ্ট সংযোজক নেই এবং এটি প্রমিত যুক্তিবাক্যের আকারে বিন্যস্ত নয়।

    ২. সত্যতা ও মিথ্যাত্ব: জনাব আহসানের বক্তব্যটি একটি বিবৃতিমূলক দাবি, যা বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সম্ভব। কিন্তু জনাব রশিদের বক্তব্যটি একটি পরামর্শ বা উপদেশমূলক বাক্য, যা সত্য বা মিথ্যা হিসেবে যাচাইযোগ্য নয়।

    ৩. অর্থ ও স্বরূপ: সব যুক্তিবাক্যই বাক্য, কিন্তু সব বাক্য যুক্তিবাক্য নয়। জনাব আহসানের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যায় অনুমান বা যুক্তির অবয়ব হিসেবে ব্যবহারযোগ্য যুক্তিবাক্য। অপরদিকে জনাব রশিদের বক্তব্য কেবল মনের ভাব প্রকাশের একটি সাধারণ ব্যাকরণিক বাক্য।

    অতএব, জনাব আহসানের বক্তব্যটি একটি সুনির্দিষ্ট যুক্তিবাক্য হলেও জনাব রশিদের বক্তব্যটি কেবলই একটি সাধারণ বাক্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন