জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
একজন শিক্ষার্থী ব্যবহারিক ক্লাশে দুটি স্লাইডে রাখা উদ্ভিদাংশের প্রস্থচ্ছেদ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করল। প্রথম স্লাইডে রাখা উপাদানটির কোষগুলোর গঠন ষড়ভূজাকার এবং নিউক্লিয়াস আকারে বড়। অপরদিকে দ্বিতীয় স্লাইডে রাখা উপাদানটির কোষগুলোর গঠন ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াস আকারে ছোট।
- ক)(1)
এন্ডোডার্মিস কী?
- খ)(2)
হাইডাথোড বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
প্রথম স্লাইডে পর্যবেক্ষিত কোষগুলোর অবস্থান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উভয় স্নাইডে পর্যবেক্ষিত কোষগুলোর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের মূল বা কাণ্ডের কর্টেক্সের সর্বভিতরের একসারি বিশিষ্ট একক কোষীয় স্তরকে এন্ডোডার্মিস বা অন্তস্ত্বক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইডাথোড (Hydathode) বা জলরন্ধ্র হলো উদ্ভিদের পাতার কিনারায় অবস্থিত বিশেষ ধরনের রন্ধ্র, যার মাধ্যমে তরল আকারে পানি বাইরে নির্গত হয়। এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পানি ফোঁটা ফোঁটা আকারে নির্গত হওয়ার ঘটনাকে গাটেশন (Guttation) বলে। হাইডাথোডের নিচে এপিথেম নামক বিশেষ প্যারেনকাইমা কোষের পুঞ্জ থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম স্লাইডে পর্যবেক্ষিত ষড়ভুজাকার এবং আকারে বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষগুলো হলো 'ভাজক টিস্যু' (Meristematic tissue)।
উদ্ভিদদেহে অবস্থান অনুসারে ভাজক টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু (Apical meristem): মূল, কাণ্ড বা তাদের শাখা-প্রশাখার শীর্ষে এই টিস্যু অবস্থান করে। এর বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক টিস্যু সৃষ্টি করে।
২. নিবেশিত বা ইন্টারক্যালারি ভাজক টিস্যু (Intercalary meristem): দুটি স্থায়ী টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে। মূলত শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর কিছু অংশ বৃদ্ধির সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে স্থায়ী টিস্যুর মাঝে থেকে গেলে এর সৃষ্টি হয়। যেমন—ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ ও পাইন গাছের পর্বমধ্যের গোড়ায় এটি থাকে।
৩. পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু (Lateral meristem): মূল বা কাণ্ডের পার্শ্ব বরাবর সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। এটি সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু। এর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গের প্রস্থে বৃদ্ধি ঘটে (সেকেন্ডারি বৃদ্ধি)। যেমন—ক্যাম্বিয়াম এবং কর্ক ক্যাম্বিয়াম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম স্লাইডে পর্যবেক্ষিত কোষগুলো হলো 'ভাজক টিস্যু' এবং দ্বিতীয় স্লাইডে পর্যবেক্ষিত ডিম্বাকার ও ছোট নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষগুলো হলো 'স্থায়ী টিস্যু' (প্যারেনকাইমা)। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিভাজন ক্ষমতা: প্রথম স্লাইডের কোষগুলোর (ভাজক টিস্যু) বিভাজন ক্ষমতা থাকে; কিন্তু দ্বিতীয় স্লাইডের কোষগুলোর (স্থায়ী টিস্যু) স্বাভাবিক অবস্থায় বিভাজন ক্ষমতা থাকে না।
২. নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম: ভাজক কোষে নিউক্লিয়াসটি আকারে বেশ বড় এবং সাইটোপ্লাজম ঘন ও দানাদার। পক্ষান্তরে, স্থায়ী কোষে নিউক্লিয়াসটি অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সাইটোপ্লাজম পাতলা থাকে।
৩. আন্তঃকোষীয় ফাঁক: ভাজক কোষগুলো ঘন সন্নিবিষ্টভাবে অবস্থান করায় এদের মাঝে কোনো আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না। কিন্তু স্থায়ী কোষে আন্তঃকোষীয় ফাঁক স্পষ্ট থাকে।
৪. কোষপ্রাচীর: ভাজক টিস্যুর কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ নির্মিত। অপরদিকে, স্থায়ী টিস্যুর কোষপ্রাচীর অপেক্ষাকৃত পুরু এবং এতে লিগনিন, সুবেরিন ইত্যাদি জমতে পারে।
৫. কোষ গহ্বর: ভাজক কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না বা থাকলেও খুব ছোট হয়। স্থায়ী কোষে বড় আকারের কোষ গহ্বর বিদ্যমান।
৬. বিপাকীয় কার্যকারিতা ও সঞ্চিত খাদ্য: ভাজক কোষগুলো সর্বদা সজীব ও অত্যন্ত বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় এবং কোনো সঞ্চিত খাদ্য থাকে না। স্থায়ী কোষ খাদ্য সঞ্চয়, দৃঢ়তা প্রদান ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও