সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রবিন ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। সদস্য। তাদের নৃগোষ্ঠীর নামকরণ করা হয় একটি পাহাড়ের নামানুসারে। তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক হলেও জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান। তাদের পরিবার ব্যবস্থা অন্য গোত্রের চেয়ে ভিন্ন।

  1. ক)

    আদাম কী?

    (1)
  2. খ)

    সাঁওতালদের জীবনে উল্কি চিহ্নের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রবিন কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে বর্ণিত নৃগোষ্ঠীর পরিবার কাঠামো ভিন্নতর"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা নৃগোষ্ঠীর গ্রামীণ বসতি বা পাড়াকে 'আদাম' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাঁওতাল সমাজে উল্কি চিহ্ন বা গায়ের উল্কি তাদের নিজস্ব কৃষ্টি, সৌন্দর্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাঁওতালদের বিশ্বাস অনুযায়ী, উল্কি চিহ্ন মৃত্যুর পর পরকালেও ব্যক্তির পরিচয় নির্দেশ করে এবং এটি দেহকে বিভিন্ন অপশক্তি ও অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে সাঁওতাল নারীদের মধ্যে সামাজিক প্রথা ও নান্দনিকতার প্রতীক হিসেবে শৈশবেই উল্কি আঁকার রেওয়াজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রবিন 'গারো' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়। গারোরা মূলত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের (ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর) সমতল ভূমিতে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ে বসবাস করে। গারো পাহাড়ের নামানুসারেই এই জনগোষ্ঠীর নামকরণ করা হয়েছে 'গারো'। তারা নিজেদের 'মান্দি' বলেও পরিচয় দেয়। এছাড়া গারোদের ঐতিহ্যবাহী আদি ধর্মের নাম ছিল 'সাংসারেক'। তবে বর্তমানে তাদের শতকরা ৯০ ভাগের বেশি লোক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। উদ্দীপকের রবিন এই ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাসিন্দা, তার নৃগোষ্ঠীর নাম পাহাড়ের নামানুসারে এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্ম সাংসারেক হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই গারো নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত গারো নৃগোষ্ঠীর পরিবার কাঠামো বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন; এটি মূলত একটি মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থা।

    গারো পরিবার কাঠামোর ভিন্নতার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. মায়ের প্রাধান্য: গারো পরিবারে মাতাই হলেন পরিবারের প্রধান এবং তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সন্তানেরা পিতার বংশনামের পরিবর্তে মায়ের বংশনাম বা পদবি ব্যবহার করে।
    ২. সম্পত্তির উত্তরাধিকার: গারো সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকার কেবল নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় বা কনিষ্ঠ কন্যাসন্তান, যাকে 'নকনা' বলা হয়, সে পরিবারের সমুদয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল উত্তরাধিকারী হয়। পুত্রসন্তানরা কোনো পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায় না।
    ৩. বাসস্থান ও বিবাহোত্তর জীবন: বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করে, যা বাংলাদেশের মূলধারার পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিপরীত। পরিবারের সকল সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাতার মতামত প্রধান বলে গণ্য হয়, যদিও মামা বা স্বামী পারিবারিক কাজে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।

    অতএব, বাংলাদেশের সিংহভাগ নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সমাজের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর তুলনায় গারোদের মাতৃপ্রধান এবং মাতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা স্বতন্ত্র ও সম্পূর্ণ ভিন্নতর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন