ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশের অর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই প্রতি অর্থবছরের শুরুতেই এ ব্যাংক দেশের সকল ব্যাংককে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা ও পরিবহন ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়। দেশের শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক স্থবিরতা দূর করার জন্য ব্যাংকটি বর্তমান খোলা বাজার কার্যক্রম চালু করেছে।

  1. ক)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাংক হার নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কাজের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ব্যবস্থার ইতিবাচক দিক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো কোনো দেশের মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রথম শ্রেণির সিকিউরিটি বা হুন্ডির বিপরীতে ঋণ প্রদান ও পুনঃবাট্টাকরণ সুবিধা দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে; আর এই হার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিকে ব্যাংক হার নীতি বলা হয়।

    অর্থবাজারে ঋণের পরিমাণ সংকুচিত করতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার বৃদ্ধি করে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়ে এবং তারা জনগণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে ঋণ সংকুচিত করে। বিপরীতভাবে মন্দাকালে ব্যাংক হার কমিয়ে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ 'ঋণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম' ফুটে উঠেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচন রোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত পরিমাণগত এবং গুণগত বা নির্বাচনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি অর্থবছরের শুরুতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা ও পরিবহন ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়, যা ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি গুণগত পদ্ধতি (ঋণের বরাদ্দকরণ বা রেশনিং নীতি)। একই সাথে শেয়ার বাজারের স্থবিরতা দূর করতে ব্যাংকটি খোলা বাজার কার্যক্রম (Open Market Operation) পরিচালনা করছে, যা ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি পরিমাণগত পদ্ধতি। সুতরাং, উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ কাজের চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি প্রধান ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে: বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণের অনুপাত নির্ধারণ (ঋণ রেশনিং) এবং শেয়ার বাজারের স্থবিরতা দূর করতে খোলা বাজার কার্যক্রম পরিচালনা।

    এই ব্যবস্থাগুলোর ইতিবাচক দিকসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও ব্যবসার মতো অগ্রাধিকারমূলক খাতে সুনির্দিষ্টভাবে ঋণ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ফলে অনুৎপাদনশীল বা ফটকা কারবারে অর্থের অপব্যবহার রোধ হবে এবং দেশের সর্বাঙ্গীন উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
    ২. অর্থবাজারে তারল্য বৃদ্ধি ও শেয়ার বাজারের পুনরুজ্জীবন: শেয়ার বাজারে তারল্য সংকট ও স্থবিরতা কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খোলা বাজার কার্যক্রম (যেমন- সিকিউরিটি ক্রয় করে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়ানো) বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে শেয়ার বাজারকে সক্রিয় করবে।
    ৩. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা: প্রয়োজন অনুসারে ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় দেশের মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং আর্থিক বিশৃঙ্খলা দূর হবে।

    সুতরাং, বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শেয়ার বাজারের স্থবিরতা নিরসন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন