ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন

জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন উড়াল সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরও অবশিষ্ট অর্থ জোগাড় করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে ৪,০০০ টাকা লিখিত মূল্যের চিরস্থায়ী বন্ড ইস্যু করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার সুদের হার ১৫%।

  1. ক)

    শূন্য কুপন বন্ড কী?

    (1)
  2. খ)

    সাধারণ শেয়ার ও বন্ডের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

    (2)
  3. গ)

    পাঁচশত কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে কতগুলো বন্ড বিক্রয় করতে হবে এবং বার্ষিক সুদ বাবদ কত টাকা প্রদান করতে হবে?

    (3)
  4. ঘ)

    সুযোগ ব্যয়ের হার ২০% হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রস্তাবিত বন্ডের বর্তমান মূল্য কত? একজন বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ডটি ক্রয় করা উচিত হবে কি?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বন্ডের গায়ে কোনো সুদের হার বা কুপন রেট উল্লেখ থাকে না এবং যা লিখিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে (বাট্টায়) ইস্যু করা হয়, তাকে শূন্য কুপন বন্ড (Zero Coupon Bond) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ শেয়ার ও বন্ডের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
    ১. মালিকানা ও প্রকৃতি: সাধারণ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করেন। অন্যদিকে, বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণের একটি দলিল, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনাদার হিসেবে গণ্য হন।
    ২. আয়ের নিশ্চয়তা: সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বা লভ্যাংশ নির্দিষ্ট থাকে না এবং তা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বন্ডহোল্ডারদের নির্দিষ্ট হারে এবং নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত সুদ প্রদান বাধ্যতামূলক, যা কোম্পানির লাভ বা ক্ষতির ওপর নির্ভর করে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এখানে,
    মোট প্রয়োজনীয় তহবিল = ৫০০ কোটি টাকা = ৫,০০০,০০,০০,০০০ টাকা
    প্রতিটি বন্ডের লিখিত মূল্য (Face Value, FV) = ৪,০০০ টাকা
    কুপন সুদের হার = ১৫%

    ১. বন্ডের সংখ্যা নির্ণয়:
    বন্ডের সংখ্যা = মোট প্রয়োজনীয় তহবিল ÷ প্রতিটি বন্ডের মূল্য
    = ৫,০০০,০০,০০,০০০ টাকা ÷ ৪,০০০ টাকা
    = ১২,৫০,০০০ টি বন্ড।

    ২. বার্ষিক প্রদেয় সুদের পরিমাণ নির্ণয়:
    প্রতিটি বন্ডের বার্ষিক সুদ (I) = লিখিত মূল্য × কুপন সুদের হার
    = ৪,০০০ × ১৫% = ৬০০ টাকা।

    সুতরাং, বার্ষিক মোট প্রদেয় সুদ = বন্ডের সংখ্যা × প্রতিটি বন্ডের বার্ষিক সুদ
    = ১২,৫০,০০০ × ৬০০ টাকা
    = ৭৫,০০,০০,০০০ টাকা (বা ৭৫ কোটি টাকা)।

    অতএব, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে ১২,৫০,০০০ টি বন্ড বিক্রয় করতে হবে এবং বার্ষিক সুদ বাবদ ৭৫ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী এটি একটি চিরস্থায়ী বন্ড (Perpetual Bond)।
    এখানে,
    প্রতিটি বন্ডের বার্ষিক সুদের পরিমাণ (I) = ৪,০০০ টাকা × ১৫% = ৬০০ টাকা
    বিনিয়োগকারীর সুযোগ ব্যয় / প্রত্যাশিত আয়ের হার (Kd) = ২০% বা ০.২০

    আমরা জানি, চিরস্থায়ী বন্ডের বর্তমান মূল্য (V0):
    V0=IKdV_0 = \frac{I}{K_d}
    =৬০০০.২০=৩,০০০= \frac{৬০০}{০.২০} = ৩,০০০ টাকা।

    বন্ডটির বর্তমান অন্তর্নিহিত মূল্য দাঁড়ায় ৩,০০০ টাকা।

    বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন:
    একজন বিনিয়োগকারী যদি বন্ডটি কিনতে চান, তবে তাকে এর লিখিত মূল্য বা ইস্যু মূল্য ৪,০০০ টাকায় ক্রয় করতে হবে। অথচ ২০% প্রত্যাশিত আয়ের হারে বন্ডটির প্রকৃত বর্তমান মূল্য মাত্র ৩,০০০ টাকা।
    যেহেতু বন্ডের বাজার/ক্রয়মূল্য (৪,০০০ টাকা) এর বর্তমান মূল্যের (৩,০০০ টাকা) চেয়ে বেশি (Overvalued), তাই এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী তার কাঙ্ক্ষিত ২০% আয় অর্জন করতে পারবেন না।

    অতএব, একজন বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ডটি ক্রয় করা উচিত হবে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন