ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
জনাব রায় কক্সবাজারে ব্যবসায় করেন। এলাকার 'MN' ব্যাংকের সাথে একটি হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন করেন। তার ছেলে নয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তিনি টাকা পাঠালে নয়ন একটি কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে। একবার জনাব রায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন এবং বিল পরিশোধের জন্য তার হিসাবে কোনো টাকা না থাকলেও একটি বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন।
- ক)(1)
এসএমএস ব্যাংকিং কী?
- খ)(2)
বর্তমানে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং অনেক জনপ্রিয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব রায়ের ব্যাংক হিসাবটির ধরন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব রায় ও নয়নের ব্যবহৃত কার্ড দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
এসএমএস ব্যাংকিং হলো মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, লেনদেনের তথ্য ইত্যাদি জানার ও কিছু ব্যাংকিং সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা।
- খ)
ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বাংলাদেশে জনপ্রিয়, কারণ এতে ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দিনরাত যেকোনো সময় লেনদেন করা যায়। এতে সময় ও খরচ কম লাগে এবং ভিড় এড়ানো যায়। এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন সেবার কারণে দূরদূরান্ত থেকেও টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধ সহজ হয়েছে। এছাড়া এতে লেনদেন দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদ।
- গ)
জনাব রায়ের ব্যাংক হিসাবটি চলতি হিসাব।
ব্যাখ্যা: ব্যবসায়ীদের ঘন ঘন লেনদেনের সুবিধার জন্য ব্যাংক যে হিসাব খোলে, তাকে চলতি হিসাব বলে। এখানে প্রয়োজনমতো যতবার ইচ্ছা টাকা জমা ও উত্তোলন করা যায় এবং চেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা যায়। সাধারণত এ হিসাবে সুদ দেওয়া হয় না। জনাব রায় কক্সবাজারে ব্যবসা করেন এবং 'MN' ব্যাংকে হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন করেন। এসব বৈশিষ্ট্য চলতি হিসাবের সঙ্গে মেলে।
- ঘ)
জনাব রায়ের ব্যবহৃত কার্ড হলো ক্রেডিট কার্ড এবং নয়নের ব্যবহৃত কার্ড হলো ডেবিট কার্ড বা এটিএম কার্ড। দুইটির মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো।
১. হিসাবে অর্থের শর্ত: রায় হিসাবে টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন। নয়নের ডেবিট কার্ডে কেবল হিসাবে জমা থাকা অর্থই তোলা বা খরচ করা যায়।
২. লেনদেনের প্রকৃতি: ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক ধারে অর্থ দেয়, পরে গ্রাহককে তা ফেরত দিতে হয়। ডেবিট কার্ডে গ্রাহক নিজের জমাকৃত অর্থই ব্যবহার করেন।
৩. সুবিধা ও ঝুঁকি: ক্রেডিট কার্ডে জরুরি প্রয়োজনে ধারে খরচ করা যায়, কিন্তু সময়মতো পরিশোধ না করলে সুদ বা জরিমানা দিতে হয়। ডেবিট কার্ডে এমন দায় নেই, তবে ব্যবহারের সীমা জমা অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ।সুতরাং, ক্রেডিট কার্ড ধারে ব্যয়ের সুযোগ দেয়, আর ডেবিট কার্ড জমা অর্থ থেকেই ব্যয়ের সুযোগ দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও