সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মৌল মানবিক চাহিদা কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক ছবিতে কোন মৌল মানবিক চাহিদার অভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশে উক্ত মৌল মানবিক চাহিদাটি পূরণ না হলে কি সমস্যা। হতে পারে? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টোলে (Charlotte Towle)-এর মতে এবং সাধারণ দৃষ্টিতে মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা প্রধানত ৬টি (যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিক্ষা হলো মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন, আচরণিক পরিবর্তন এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি মানুষের মননশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জীবনযাপনের উপযোগী জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়তা করে। তাই সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্মে শিক্ষাকে একটি অন্যতম প্রধান মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে গণ্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছবিতে মৌল মানবিক চাহিদার মধ্যে প্রধান ও মৌলিক চাহিদা 'খাদ্য'-এর অভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

    মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা হলো খাদ্য। নিয়মিত ও পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি অর্জিত হয়।

    উদ্দীপকের ছবিতে একটি শিশুকে অত্যন্ত শীর্ণকায় এবং কঙ্কালসার অস্থিচর্মসার অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে শিশুটি মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। এ ধরনের শারীরিক অবস্থা মূলত দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষের শিকার মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্রে মৌল মানবিক চাহিদার অন্যতম উপাদান 'খাদ্য'-এর তীব্র অভাব প্রকাশিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে 'খাদ্য' নামক মৌল মানবিক চাহিদাটি পূরণ না হলে নানাবিধ মারাত্মক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। নিচে এ বিষয়ে বিশদ মতামত দেওয়া হলো:

    ১. অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যহীনতা: খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশেষ করে শিশু ও নারীরা মারাত্মক অপুষ্টির শিকার হয়। এতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, শিশুদের মধ্যে খর্বাকৃতি ও ক্ষীণকায় হওয়ার হার বৃদ্ধি পায় এবং নানা সংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

    ২. কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে জনগণের শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদনশীলতা কমে যায়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে স্থবির করে তোলে।

    ৩. দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি: খাদ্যের দাম বৃদ্ধি বা খাদ্যাভাবের কারণে নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের আয়ের সিংহভাগ খাদ্যের পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হয়। এর ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে পারে না, যা সমাজে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে।

    ৪. অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি: ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ নৈতিক স্খলনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সমাজে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অনৈতিক কাজ এবং শিশুশ্রম বৃদ্ধি পায়, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

    ৫. সামাজিক অস্থিরতা: খাদ্য সংকট তীব্র রূপ ধারণ করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, খাদ্য দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

    অতএব, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য বাংলাদেশে খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদার নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন