বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে এই পৃথিবীতে বহু নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু, ইন্দিরা গান্ধীএরকম বহু নাম ইতিহাসের পাতায় করুণ অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এইসব মহান নেতার নিকটতম ব্যক্তিবর্গই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। কখনো বিদেশি চক্রান্ত, কখনো দেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এই বরেণ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।" ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমেনা বেগম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি করেছিলেন ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে। তিনি এর মাধ্যমে নবাবের অভিযানের মুখে ইংরেজদের ভীরু ও কাপুরুষোচিত পলায়নকে ব্যঙ্গ করেছেন।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন কলকাতা আক্রমণ করেন, তখন ইংরেজরা মুখে নিজেদের বীর ও পরাক্রমশালী দাবি করলেও তারা নবাবের বাহিনীর সামনে দাঁড়াতে পারেনি। ইংরেজ গভর্নর ড্রেক এবং অন্যান্য অফিসাররা সৈন্যদের ফেলে রেখে জাহাজে চড়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। ব্রিটিশদের সেই ভীরু আচরণকে বিদ্রূপ করতেই সাঁফ্রে এই মন্তব্যটি করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশীয় ষড়যন্ত্র, নিকটতম ব্যক্তিবর্গের বিশ্বাসঘাতকতা ও বহিরাগত চক্রান্তের মাধ্যমে ট্র্যাজিক পরিণতির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইতিহাসে ক্ষমতা ও স্বার্থের লোভে আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর মতো মহান নেতাদের হত্যা করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে নিকটতম ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি শক্তি জড়িত ছিল।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার স্বাধীনতার প্রতীক। অথচ তাঁর সবচেয়ে নিকটজন—আপন খালা ঘসেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ক্ষমতার লোভে বহিরাগত ব্রিটিশদের সাথে হাত মেলায়। পলাশীর আম্রকাননে মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব পরাজিত হন এবং পরে নির্মমভাবে নিহত হন। উদ্দীপকে বর্ণিত মহান নেতাদের মতো সিরাজউদ্দৌলাও দেশি বিশ্বাসঘাতক ও বিদেশি চক্রান্তের শিকার হয়ে করুণ পরিণতির শিকার হয়েছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে দেখা যায়, ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব মানুষকে বিবেকহীন, অকৃতজ্ঞ ও চরম দেশদ্রোহীতে পরিণত করে, যা ব্যক্তি ও জাতির জন্য মহা বিপর্যয় ডেকে আনে।

    ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার লোভ যখন নৈতিকতাকে গ্রাস করে, তখন মানুষ নিজের দেশ, জাতি ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি বেইমানি করতে দ্বিধা করে না। উদ্দীপকে উল্লেখিত মহান নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার পেছনে কাজ করেছে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রান্তকারী এবং তাদের ঘনিষ্ঠ ঘাতকদল।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের অন্ধ স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার মোহ ছিল প্রবল। মীর জাফর শুধু মসনদে বসার লোভে বহিরাগত ইংরেজদের ক্রীড়নক হতে রাজি হয়েছিল। ঘসেটি বেগম সিরাজের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে দেশের স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দেন। এই ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলে কেবল নবাব সিরাজউদ্দৌলাকেই জীবন দিতে হয়নি, বরং বাংলা তথা সমগ্র ভারত প্রায় দুশো বছরের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল।

    অতএব, উদ্দীপক ও নাটক উভয় সূত্রেই প্রমাণিত হয় যে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্বরূপ অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক; এটি ন্যায়বোধকে হত্যা করে এবং জাতীয় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাজেডি বয়ে নিয়ে আসে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন