জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

এক বিশেষ ধরনের খাদ্য কতিপয় এনজাইম দ্বারা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত দুটি বিপরীতধর্মী হরমোন দেহে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ কর।

  1. ক)

    স্থূলতা কী?

    (1)
  2. খ)

    জৈব রসায়নাগার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    রক্তে উপাদানটির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে হরমোন দুটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেহে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার ফলে স্বাস্থ্যের যে অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়, তাকে স্থূলতা (Obesity) বলে। সাধারণত BMI ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবদেহের যকৃতকে (Liver) 'জৈব রসায়নাগার' (Organic Laboratory) বলা হয়। যকৃতে বিপাকীয়, সঞ্চয়ী ও নিরাপত্তামূলক অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈব সংশ্লেষণ অনবরত চলতে থাকে। এটি শর্করা, লিপিড ও প্রোটিন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে, বিষাক্ত পদার্থকে নির্বিষ করে, রক্ত উৎপাদন ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সঞ্চয় করে। দেহের সবচেয়ে বড় এই রাসায়নিক কারখানা হিসেবে বহুমুখী কাজের জন্যই যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ খাদ্যটি হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, যা বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. মুখবিবরে পরিপাক:
    মুখবিবরে লালারসে বিদ্যমান টায়ালিন সেদ্ধ শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজ ও মল্টোট্রিয়োজে পরিণত করে। লালার মল্টেজ সামান্য মল্টোজকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে।

    ২. পাকস্থলীতে পরিপাক:
    পাকস্থলীতে কোনো কার্বোহাইড্রেট বিশ্লেষক এনজাইম না থাকায় এবং অম্লীয় পরিবেশের কারণে এখানে কোনো শর্করা পরিপাক ঘটে না।

    ৩. ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক:
    (ক) অগ্ন্যাশয়রসের ভূমিকা: অগ্ন্যাশয়ীয় অ্যামাইলেজ জটিল শর্করাকে ভেঙে মল্টোজ ও আইসোমল্টোজে পরিণত করে।
    (খ) অন্ত্ররসের ভূমিকা:

    • মল্টেজ: মল্টোজকে ভেঙে দুই অণু গ্লুকোজে পরিণত করে।
    • সুক্রেজ: সুক্রোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে।
    • ল্যাক্টেজ: ল্যাক্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিণত করে।
    • আইসোমল্টেজ: আইসোমল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে।

    এভাবে বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় জটিল শর্করা খাদ্য পরিপাক হয়ে সরল একক গ্লুকোজে পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানটি হলো রক্তের গ্লুকোজ এবং অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে নিঃসৃত বিপরীতধর্মী হরমোন দুটি হলো 'ইনসুলিন' (বিটা কোষ থেকে) এবং 'গ্লুকাগন' (আলফা কোষ থেকে)। রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা (৪-৬ mmol/L) নিয়ন্ত্রণে এদের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ইনসুলিনের ভূমিকা (রক্তে গ্লুকোজ কমানো):
    খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এটি নিম্নলিখিত উপায়ে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়:

    • যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে সঞ্চিত রাখে।
    • কোষের ঝিল্লির গ্লুকোজ ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ ত্বরান্বিত করে এবং শক্তি উৎপাদনে সেলুলার শ্বসন বৃদ্ধি করে।
    • গ্লুকোনিওজেনেসিস এবং গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে।

    ২. গ্লুকাগনের ভূমিকা (রক্তে গ্লুকোজ বাড়ানো):
    অনাহার বা দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। এটি রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে ভূমিকা রাখে:

    • যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে রক্তে ছেড়ে দেয়।
    • গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় অশর্করা উৎস (যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড, গ্লিসারল) থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে।

    এভাবে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন একটি নেগেটিভ ফিডব্যাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে মানবদেহে গ্লুকোজের স্বাভাবিক ভারসাম্য (হোমিওস্ট্যাসিস) বজায় রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন