জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ইমিউনতন্ত্র কী?
- খ)(2)
অর্জিত প্রতিরক্ষা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিত্রটি যে প্রতিরক্ষা স্তর নির্দেশ করে সেই স্তরের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
'B' চিত্রটি মানবদেহে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে তন্ত্রের মাধ্যমে মানবদেহ বহিরাগত রোগজীবাণু বা ক্ষতিকর পদার্থের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে, তাকে ইমিউনতন্ত্র বা প্রতিরক্ষা তন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জন্মের পর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসার ফলে মানবদেহে যে বিশেষায়িত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা (Acquired immunity) বলে।
এটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট (specific) এবং এর স্মৃতি (immunological memory) থাকে। পূর্বে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে বা টিকার মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে একই ধরনের জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিত্রটি হলো মানবদেহের পাকস্থলী, যা দেহের 'প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর' (First line of defense)-কে নির্দেশ করে। এটি একটি নন-স্পেসিফিক বা অনির্দিষ্ট সহজাত প্রতিরক্ষা স্তর।
প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরটির বৈশিষ্ট্য ও বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
১. বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতা: এ স্তরের কাজ হলো কোনো জীবাণু বা ক্ষতিকর বহিরাগত বস্তুকে দেহের ভেতরে প্রবেশে সরাসরি বাধা দেওয়া।
২. যান্ত্রিক ও ভৌত প্রতিবন্ধক: ত্বক জীবাণুর প্রবেশে ভৌত প্রাচীর তৈরি করে। এছাড়া সিলিয়া, মিউকাস পর্দা ধূলিকণা ও জীবাণু আটকে দেয়। অশ্রু ও লালা এনজাইম (লাইসোজাইম) নিঃসরণের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করে।
৩. রাসায়নিক প্রতিবন্ধক হিসেবে পাকস্থলীর ভূমিকা: উদ্দীপকের পাকস্থলী থেকে ক্ষরিত অত্যন্ত অম্লীয় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের সাথে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুকে মেরে ফেলে। একইসাথে গ্যাস্ট্রিক জুসের প্রোটিওলাইটিক এনজাইম জীবাণু ধ্বংস করে।সুতরাং, প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরটি দেহের বহিঃপ্রাচীর এবং ক্ষরিত রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রাথমিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' চিত্রটি একটি অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবুলিন (Ig)-এর গঠন নির্দেশ করছে। মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের অর্জিত প্রতিরক্ষায় (বিশেষ করে হিউমোরাল বা রসনির্ভর প্রতিরক্ষায়) অ্যান্টিবডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবডির ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিউট্রালাইজেশন (প্রশমন): অ্যান্টিবডি জীবাণু বা টক্সিনের নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনিক সাইটে যুক্ত হয়ে তাদের বিষাক্ত কার্যকারিতা বিনষ্ট বা প্রশমিত করে।
২. অ্যাগ্লুটিনেশন (পিণ্ডীভবন): অ্যান্টিবডি একাধিক অ্যান্টিজেন বা ব্যাকটেরিয়াকে একসাথে যুক্ত করে পিণ্ড তৈরি করে, যার ফলে জীবাণুগুলোর চলাচল ও কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়।
৩. অপসোনাইজেশন: অ্যান্টিবডি ক্ষতিকর জীবাণুর বহিরাবরণকে আবৃত করে ফেলে, যা ফ্যাগোসাইটিক কোষগুলোর (যেমন- ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল) মাধ্যমে জীবাণুকে সহজে শনাক্ত ও ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করতে সাহায্য করে।
৪. কমপ্লিমেন্ট সক্রিয়করণ: অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স রক্তরসের কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে কোষপ্রাচীরে ছিদ্র সৃষ্টি করে জীবাণুর বিশ্লেষণ (লাইসিস) ঘটায়।
৫. প্রেসিপিটেশন (অধঃক্ষেপণ): দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনকে অদ্রবণীয় করে অধঃক্ষিপ্ত করে দেয়, ফলে ফ্যাগোসাইট সহজে তা পরিষ্কার করতে পারে।অতএব, অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণু ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয়করণ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা উপাদানকে সক্রিয় করার মাধ্যমে মানবদেহকে রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও