অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনীতিতে পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং একটি। দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। প্রতিটি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য বিমোচন। 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে হলো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণের সংখ্যা বর্তমানের ৩১.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এভাবে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।
- ক)(1)
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা কাকে বলে?
- খ)(2)
’বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবরূপ লাভ করে;- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনার ধরন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উন্নয়ন কৌশল বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কতটুকু সফল হয়েছে? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) হলো একটি স্বল্পমেয়াদি বা এক বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা। অন্যদিকে, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো পাঁচ বছর মেয়াদের একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে ভেঙে এক বছরভিত্তিক ছোট ছোট সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মূল পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবরূপ লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনাগুলো ছিল মূলত 'মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা' এবং এর অন্তর্ভুক্ত পঞ্চবার্ষিক ও দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা।
অর্থনীতিতে সাধারণত তিন থেকে সাত বছর মেয়াদের পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (প্রতিটি ৫ বছর মেয়াদি) এবং একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৮-১৯৮০) প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয়। এসব পরিকল্পনার মূল কৌশল ছিল কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং পর্যায়ক্রমিক দারিদ্র্য দূরীকরণ। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে এই মধ্যমেয়াদি পঞ্চবার্ষিক কৌশলগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১১-২০১৫) উন্নয়ন কৌশল বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সফল ভূমিকা পালন করেছে।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান কৌশল ছিল উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, 'রূপকল্প ২০২১' অর্জনের লক্ষ্যে দারিদ্র্যের হার হ্রাস করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করাই ছিল এর লক্ষ্য।
বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬ শতাংশের উপরে বজায় থাকে। ২০১০ সালে যেখানে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষে অর্থাৎ ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ (HIES) অনুযায়ী তা নেমে আসে ২৪.৩ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়ায় ১২.৯ শতাংশে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে দারিদ্র্য নিরসনে ব্যাপক সাফল্য আসে।
অতএব, যদিও পূর্ণমেয়াদে দারিদ্র্যের হার একলাফে ১৫ শতাংশে নামানো সম্ভব হয়নি, তবুও দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উন্নয়ন কৌশল যথেষ্ট সফল ও কার্যকর হয়েছে বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও