ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব মনির সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক' পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি তাঁর অধীনস্থ বিক্রয় কর্মকর্তাদের কার্য ও দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। নিয়মিত তদারকি ও যোগাযোগের মাধ্যমে মাসের নির্দিষ্ট বিক্রয় টার্গেট অর্জন করলেন। মাস শেষে তিনি লক্ষ্য করলেন, একই ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন ও একই সাথে যোগদান করা অন্য ব্যবস্থাপকের সম্মানী তাঁর থেকে অনেক বেশি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

  1. ক)

    নীতি কি?

    (1)
  2. খ)

    সমস্যা অনুধাবন দক্ষতা কীভাবে কাজের গতি বৃদ্ধি করে?

    (2)
  3. গ)

    জনাব মনির বিক্রয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্য ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যে ব্যবস্থাপনার কোন নীতির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব মনিরের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যবস্থাপনার নীতির আলোকে মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নীতি হলো কোনো কাজের দিকনির্দেশনা প্রদানকারী সাধারণ বা মৌলিক নিয়ম ও বিশ্বাস, যা কোনো কাজ সম্পাদনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমস্যার মূল কারণ দ্রুত চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সমাধান প্রদানের মাধ্যমে সমস্যা অনুধাবন দক্ষতা কাজের গতি বৃদ্ধি করে।

    প্রতিষ্ঠানের কাজ চলাকালীন নানারকম জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা বা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ব্যবস্থাপকের যদি সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা থাকে, তবে তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব দ্রুত বুঝতে পারেন এবং সমস্যার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ফলে অহেতুক কালক্ষেপণ পরিহার হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের স্বাভাবিক গতিশীলতা অক্ষুণ্ণ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব মনির বিক্রয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্য ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার 'শ্রম বিভাজন বা কার্য বিভাজনের নীতি' (Division of Work) বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন।

    হেনরি ফেয়ল বর্ণিত ব্যবস্থাপনার প্রথম নীতিটি হলো শ্রম বিভাজন নীতি। এ নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে কর্মীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হয়, যাতে কাজের বিশেষায়ন ঘটে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মনির বিপণন ব্যবস্থাপক পদে যোগদানের পরই তাঁর অধীনস্থ বিক্রয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কার্য বণ্টন করে দেন। এর ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ নির্ধারিত দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সময়মতো বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। সুতরাং কর্মীদের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়ায় এখানে কার্য বিভাজনের নীতি সুস্পষ্টভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব মনিরের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি ব্যবস্থাপনার 'উপযুক্ত পারিশ্রমিক' এবং 'ন্যায়পরায়ণতার নীতি'র লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে যৌক্তিক ছিল বলে আমি মনে করি।

    ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসারে কর্মীদের কাজের অবদান, মেধা, যোগ্যতা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে ন্যায্য ও সন্তোষজনক পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত (উপযুক্ত পারিশ্রমিকের নীতি)। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীর প্রতি সমদৃষ্টি ও বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব (ন্যায়পরায়ণতার নীতি)। যোগ্যতা ও কাজের স্তর এক হওয়া সত্ত্বেও বৈষম্য করা হলে কর্মীর মনোবল ভেঙে যায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মনির বিপণন ব্যবস্থাপক হিসেবে সফলতার সাথে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছেন। কিন্তু তিনি দেখতে পান যে তাঁর সমযোগ্যতাসম্পন্ন এবং একই সাথে যোগদান করা অপর একজন ব্যবস্থাপকের সম্মানী তাঁর তুলনায় অনেক বেশি। এটি ন্যায়পরায়ণতার নীতি ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেও কোনো সুবিচার বা ইতিবাচক সমাধান পাননি।

    অন্যায্য বেতন বৈষম্য এবং ঊর্ধ্বতনদের অনীহা একজন যোগ্য ও সফল কর্মকর্তার পেশাগত আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে এবং কাজের প্রেরণা নষ্ট করে। তাই এমন বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কর্মপরিবেশ থেকে জনাব মনিরের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তটি ব্যবস্থাপনার নীতির আলোকে সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন