বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জান না কি জীব তুমি, জননী জন্মভূমিসে তোমায় হৃদয়ে রেখেছে।থাকিয়া মায়ের কোলে, সন্তানে জননী ভোলে,কে কোথায় এমন দেখেছে।।মিছা মনি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর।

  1. ক)

    রোজার ড্রেক কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    "আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়"-উক্তিটি কেন করেছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের স্বদেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কোন চরিত্রে অনুপস্থিত? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের মূলভাব আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূলভাব যেন একসূত্রে গাঁথা।"-তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোজার ড্রেক ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের গভর্নর বা কলকাতার ইংরেজদের গভর্নর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চারদিকের ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা এবং স্বজনদের বিরোধিতার মুখে সিরাজউদ্দৌলা নিজেকে সম্পূর্ণ একা, অবরুদ্ধ ও অসহায় বোধ করায় উক্তিটি করেছেন।

    বাংলার নবাব হিসেবে সিরাজউদ্দৌলা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর রাজদরবারের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম এবং প্রভাবশালী অমাত্যবর্গ ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তিনি কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এবং সবদিক থেকে এক অদৃশ্য বাধার প্রাচীর তাঁর পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছিল। এই গভীর মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা ও অবরুদ্ধতার অনুভূতি থেকেই সিরাজউদ্দৌলা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, "আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়"।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মাতৃভূমিকে হৃদয়ে ধারণ করার যে আকুল স্বদেশপ্রেম ব্যক্ত হয়েছে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও উমিচাঁদের মতো বিশ্বাসঘাতকদের চরিত্রে তা একেবারেই অনুপস্থিত।

    উদ্দীপকের কবিতাংশে জন্মভূমিকে মায়ের সমতুল্য রত্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার প্রেম মণি-মুক্তা বা সোনার চেয়েও মূল্যবান। প্রকৃত সন্তানের মতো মাতৃভূমিকে ভালোবাসাই এখানে মূল কথা।

    অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায় মীর জাফর ব্যক্তিগত লোভ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নবাবের পদের মোহে দেশের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে তুলে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। ঘসেটি বেগম পারিবারিক প্রতিহিংসায় অন্ধ হয়ে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয়। রাজবল্লভ ও জগৎশেঠ নিজেদের বাণিজ্যিক ও বৈষয়িক লাভের জন্য বিদেশি ইংরেজ বেনিয়াদের সঙ্গে আঁতাত করে। তাদের কারও মধ্যেই মাতৃভূমির প্রতি কোনো মমত্ববোধ বা স্বদেশপ্রেম ছিল না। উদ্দীপকের কবিতার দেশপ্রেমের যে শাশ্বত রূপ, তা নাটকের এই দেশদ্রোহী ও স্বার্থপর চরিত্রগুলোতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের মূলভাব আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূলভাব যেন একসূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকের মূল বক্তব্য হলো জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও স্বদেশপ্রেম। স্বদেশের ভালোবাসাই একজন মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, যার সাথে দুনিয়ার মণি-মুক্তার কোনো তুলনা চলে না। জন্মভূমি মায়ের মতো সন্তানকে বুকে ধারণ করে রাখে, তাই তার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকা অপরিহার্য।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় ভাবও এই স্বদেশপ্রেম এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা। নাটকের প্রধান চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা নানা প্রতিকূলতা, অমাত্যদের কুটিল ষড়যন্ত্র এবং ইংরেজদের আগ্রাসনের মুখেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাতৃভূমির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল ছিলেন। তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করেও বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। মীর জাফরদের বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে সিরাজউদ্দৌলা, মীর মদন ও মোহনলালের দেশপ্রেমই নাটকে প্রধান ও মহিমান্বিত দিক হিসেবে ফুটে উঠেছে। নাটকের করুণ পরিণতিতেও স্বদেশের স্বাধীনতার কথাই বারবার প্রতিধ্বনিত হয়।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের স্বদেশপ্রেমের সুর এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল আবেদন একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও নাটকের মূলভাব প্রকৃতপক্ষে একসূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন