গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বিকাশ কী?
- খ)(2)
‘পরিপক্কতা ও শিক্ষণ একে অপরের উপর নির্ভরশীল’— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছক 'A' এর বিকাশের মাত্রা নির্ণয়ে কোন ধরনের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার পরীক্ষা করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক 'B' ও 'C' চিহ্নিত শিশুর মানসিক বিকাশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিকাশ হলো শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত পরিবর্তন, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নতুন বৈশিষ্ট্য ও কর্মদক্ষতা অর্জন করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিপক্কতা হলো একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, শিক্ষণ হলো পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং অনুশীলনের ফলে অর্জিত স্থায়ী আচরণিক পরিবর্তন। নির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিপক্কতা না এলে কোনো বিষয়ে শিক্ষণ সম্ভব হয় না (যেমন—পায়ের পেশির পরিপক্কতা ছাড়া হাঁটা শেখানো যায় না)। আবার উপযুক্ত পরিবেশ ও শিক্ষণের সুযোগ ছাড়া পরিপক্কতা পূর্ণতা পায় না। তাই পরিপক্কতা ও শিক্ষণ একে অপরের উপর ঘনিষ্ঠভাবে নির্ভরশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক 'A' তে নবজাতক কালের বৈশিষ্ট্য (জন্ম গ্রহণ, খাপ খাওয়ানো, অফুরন্ত প্রাণশক্তি) নির্দেশ করা হয়েছে। নবজাতকের শারীরিক ও স্নায়বিক সুস্থতা তথা বিকাশের স্বাভাবিক মাত্রা নির্ণয়ে বিভিন্ন সহজাত অনৈচ্ছিক বা প্রতিবর্তী ক্রিয়া (Reflex actions) পরীক্ষা করা হয়।
এই প্রতিবর্তী ক্রিয়াসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. মোরো রিফ্লেক্স (Moro reflex): হঠাৎ উচ্চ শব্দ হলে বা ভারসাম্যহীন বোধ করলে শিশু হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরার মতো ভঙ্গি করে।
২. রুটিং রিফ্লেক্স (Rooting reflex): শিশুর গালে বা ঠোঁটের কোণে আঙুল ছোঁয়ালে সে সেদিকে মাথা ঘুরিয়ে মুখ খোলে স্তন বা খাদ্য খোঁজার জন্য।
৩. চোষা রিফ্লেক্স (Sucking reflex): মুখে কোনো বস্তু দিলে শিশু আপনা-আপনি চুষতে শুরু করে।
৪. গ্রাসপিং বা আঁকড়ে ধরা রিফ্লেক্স (Grasping reflex): শিশুর হাতের তালুতে কিছু রাখলে শক্ত করে মুঠো করে ধরে।
৫. বাবিনস্কি রিফ্লেক্স (Babinski reflex): শিশুর পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিলে বুড়ো আঙুল ওপরের দিকে ওঠে এবং অন্যান্য আঙুলগুলো ছড়িয়ে পড়ে।এসব প্রতিবর্তী ক্রিয়ার সঠিক উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও স্বাভাবিক বিকাশ যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক 'B' তে শিশুর 'হামাগুড়ি দেয়া, একাকী হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা' অর্থাৎ শৈশবকালের প্রথমার্ধের (বাস্তবে শৈশবকাল বা টডলার/প্রারম্ভিক পর্যায়) সঞ্চালনমূলক ও শারীরিক বিকাশ এবং ছক 'C' তে 'সবকিছু জানতে চাওয়া, ভাবনায় বিভোর, মায়ের মতো সকলের কুশল জানতে চাওয়া' দ্বারা প্রারম্ভিক/মধ্য শৈশবের মানসিক বা প্রজ্ঞামূলক বিকাশ প্রতিফলিত হয়েছে। এদের মানসিক বিকাশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা: ছক 'B' পর্যায়ের শিশুরা পরিবেশকে হাত দিয়ে স্পর্শ করে, মুখে দিয়ে এবং সঞ্চালনের (হামাগুড়ি, হাঁটা) মাধ্যমে চিনতে শেখে। বিপরীতে ছক 'C' পর্যায়ের শিশুর ভাষা ও চিন্তাশক্তি উন্নত হওয়ায় সে প্রশ্ন করার মাধ্যমে সবকিছু জানতে চায় ('কেন', 'কীভাবে' ইত্যাদি)।
২. কল্পনাশক্তি ও চিন্তন ক্ষমতা: ছক 'B' এর শিশুর চিন্তা কেবল প্রত্যক্ষ বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে (ইন্দ্রিয়-নির্ভর)। কিন্তু ছক 'C' এর শিশুর মধ্যে কল্পনাশক্তি প্রবল হয়, ফলে সে বিভিন্ন ভাবনায় বিভোর থাকে এবং রূপকথা বা কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
৩. অনুকরণপ্রিয়তা ও সামাজিক মানসিকতা: ছক 'B' তে শিশুরা সহজ কিছু অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করে। কিন্তু ছক 'C' তে শিশুরা বড়দের জটিল সামাজিক আচরণ অনুকরণ করে; যেমন—মায়ের মতো সকলের যত্ন নেওয়া বা কুশল জিজ্ঞেস করা, যা তাদের সামাজিক ও আবেগীয় মানসিক পরিপক্কতার বহিঃপ্রকাশ।
৪. আত্মকেন্দ্রিকতা ও ভাষা: ছক 'B' এর শিশু অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক থাকে এবং ভাষার প্রাথমিক বিকাশ ঘটে। পক্ষান্তরে, ছক 'C' এর শিশু ভাষাগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হয়ে অন্যদের আবেগ বোঝার চেষ্টা করে।
পরিশেষে বলা যায়, ছক 'B' এর শিশুর মানসিক বিকাশ প্রধানত অঙ্গসঞ্চালন ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ঘটে, অন্যদিকে ছক 'C' এর শিশুর বিকাশ প্রধানত ভাষা, চিন্তা, কৌতূহল ও অনুকরণের মাধ্যমে গভীরতর রূপ নেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও