ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক আব্দুল হাকিম ইসলাম শিক্ষা ক্লাসে ইমানের সর্বোত্তম শাখা, সর্বনিম্ন শাখা এবং ইমানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। চমৎকার এই আলোচনা থেকে সকল শিক্ষার্থী ঐ উপকৃত হয় । যায়েদ অনেক ধন-সম্পদের মালিক। তিনি তাঁর সম্পদ কল্যাণকর কাজে অকাতরে খরচ করেন। অন্যদিকে সাঈদ ইসলামি শিক্ষা বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী নিজে আমল করেন এবং অন্য মানুষকে তা শেখান। সমাজের কতিপয় মানুষ যায়েদ ও সাঈদের কাজের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করেন।
- ক)(1)
ইসলামের স্তম্ভ কয়টি?
- খ)(2)
হালাল উপার্জন করা ফরজ কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
অধ্যাপক আব্দুল হাকিম কর্তৃক আলোচিত ইমানের শাখাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
যায়েদ ও সাঈদের কাজের প্রতি সমাজের কতিপয় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামের স্তম্ভ পাঁচটি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হালাল উপার্জন করা ফরজ, কারণ ইসলামে ইবাদত কবুল হওয়া এবং আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের পূর্বশর্ত হলো হালাল রিজিক গ্রহণ করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'ফরজ ইবাদতের পর হালাল জীবিকা সন্ধান করা একটি ফরজ।' হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং হারাম উপার্জনের মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। এছাড়া সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সততার সাথে হালাল পথে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যাবশ্যক। তাই ইসলামে হালাল উপার্জন করা ফরজ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক আব্দুল হাকিম কর্তৃক আলোচিত বিষয়গুলো হাদিসে বর্ণিত ইমানের বিভিন্ন শাখাসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করে।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'ইমানের সত্তরেরও বেশি (বা ষাটেরও বেশি) শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা; এবং লজ্জা হলো ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা' (সহিহ মুসলিম)।
১. সর্বোত্তম শাখা: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'—অর্থাৎ তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া। এটি ইমানের মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমেই মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে।
২. সর্বনিম্ন শাখা: রাস্তা বা চলাচলের পথ থেকে কাঁটা, পাথর, ময়লা বা যে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। এটি জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ, যা ইমানের অংশ।
৩. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা: লজ্জা বা হায়া। লজ্জা মানুষকে পাপাচার ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকাজে পরিচালিত করে। লজ্জা না থাকলে মানুষের পক্ষে যেকোনো পাপ করা সহজ হয়ে যায়।অধ্যাপক আব্দুল হাকিম উক্ত হাদিসের আলোকেই ইমানের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা শিক্ষার্থীদের সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত যায়েদ ও সাঈদের কাজের প্রতি সমাজের কতিপয় মানুষের যে ঈর্ষা, তা হাদিসের দৃষ্টিতে 'গিবতাহ' বা প্রশংসনীয় ঈর্ষা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইসলামে সাধারণ হিংসা (হাসাদ)—অর্থাৎ অন্যের ভালো সহ্য না করে তার ধ্বংস কামনা করা—কঠোরভাবে হারাম ও নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হিংসা নেক কাজসমূহকে এমনভাবে ধ্বংস করে, যেমন আগুন কাঠকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়।' তবে অন্যের নেক কাজ দেখে নিজের মধ্যেও অনুরূপ কল্যাণ অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তাকে 'গিবতাহ' বা ঈর্ষা বলে, যা ইসলামে অনুমোদিত ও প্রশংসিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'কেবল দু'টি বিষয়ে ঈর্ষা (গিবতাহ) করা যায়: এক. যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং তা সত্যের পথে ব্যয় করার সামর্থ্য দিয়েছেন। দুই. যাকে আল্লাহ হিকমত বা জ্ঞান দান করেছেন এবং সে তা অনুযায়ী ফয়সালা করে ও তা অন্যদের শিক্ষা দেয়' (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
উদ্দীপকে যায়েদ তার ধন-সম্পদ কল্যাণকর কাজে ব্যয় করছেন এবং সাঈদ অর্জিত ইসলামি জ্ঞান দ্বারা নিজে আমল করছেন ও অন্যদের শিক্ষা দিচ্ছেন। হাদিসে বর্ণিত প্রশংসনীয় ঈর্ষার এই দু'টি ক্ষেত্রই উদ্দীপকের দুই ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান। অতএব, সমাজের মানুষ যদি তাঁদের এই মহৎ কাজ দেখে হিংসা না করে বরং নিজেও তাঁদের মতো দানশীল ও জ্ঞানী হয়ে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করার সৎ আকাঙ্ক্ষা (গিবতাহ) পোষণ করে, তবে তা হাদিসের আলোকে পুরোপুরি সংগত ও প্রশংসনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও