জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সিন্যাপসিস কি?
- খ)(2)
মুক্ত নিউক্লিয়ার বিভাজন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'M' এর তৃতীয় দশার সচিত্র বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
যৌন জননক্ষমজীবের দৈহিক বৃদ্ধি এবং বংশ বৃদ্ধিতে প্রক্রিয়া 'M' এবং 'N' পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১-এর জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস বা সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে যে জোড় সৃষ্টি হয়, তাকে সিন্যাপসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোষ বিভাজনে সাইটোকাইনেসিস ছাড়াই বারবার শুধু ক্যারিওকাইনেসিস বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটাকে মুক্ত নিউক্লিয়ার বিভাজন (Free nuclear division) বলে।
এ প্রক্রিয়ায় একটি কোষে কোনো প্রকার কোষপ্রাচীর বা কোষঝিল্লি গঠন ব্যতিরেকেই অসংখ্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়। যেমন— ডাবের পানিতে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত তরল এন্ডোস্পার্ম বা শস্যকলার সৃষ্টি মুক্ত নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'M' প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন, কারণ এখানে একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে দুটি সমগুণসম্পন্ন ডিপ্লয়েড (2n) অপত্য কোষ সৃষ্টি করেছে। মাইটোসিসের পর্যায়ক্রমিক পাঁচটি দশার মধ্যে তৃতীয় দশাটি হলো 'অ্যানাফেজ' বা গতিপর্যায়।
অ্যানাফেজ (গতিপর্যায়)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
২. অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর সেন্ট্রোমিয়ার মেরুমুখী এবং বাহুদ্বয় বিষুবীয়মুখী হয়ে বিপরীত দুই মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
৩. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমগুলো দেখতে V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) অথবা I (টেলোসেন্ট্রিক)-আকারের মতো দেখায়।
৪. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো মেরুর কাছাকাছি পৌঁছালে এ পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।[চিত্রের বিবরণ: চিত্রে স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই বিপরীত মেরুর দিকে ধাবমান V, L, J, I আকৃতির অপত্য ক্রোমোজোম এবং ট্রাকশন তন্তু প্রদর্শিত হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'M' প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস এবং 'N' প্রক্রিয়াটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন। যৌন জননক্ষম জীবের দৈহিক বৃদ্ধি এবং বংশ রক্ষায় এ দুটি প্রক্রিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং পরস্পর নির্ভরশীল।
১. মায়োসিসের ভূমিকা (বংশ বৃদ্ধি ও গ্যামেট সৃষ্টি): যৌন জননক্ষম ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে মায়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয়। এর ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে। মায়োসিস না ঘটলে নিষেধের পর বংশধরের ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, যা প্রজাতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করত।
২. মাইটোসিসের ভূমিকা (দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ): নিষেধের মাধ্যমে সৃষ্ট এককোষী ডিপ্লয়েড জাইগোট বারবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বহুকোষী জীবে পরিণত হয়। জীবের সার্বিক দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ এবং নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে।
৩. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: মাইটোসিস না থাকলে জাইগোট বৃদ্ধি পেয়ে কখনো জননক্ষম পূর্ণাঙ্গ জীবে রূপ নিতে পারত না, ফলে জনন অঙ্গ ও জননকোষ সৃষ্টির ভিত্তি তৈরি হতো না। আবার, মায়োসিস না ঘটলে জননকোষ সৃষ্টি হতো না এবং জাইগোট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকত না, ফলে পরবর্তী প্রজন্মের মাইটোসিস ঘটার প্রশ্নই উঠত না।
সুতরাং, যৌন জননক্ষম জীবের ক্ষেত্রে বংশগতি রক্ষা এবং দৈহিক পরিস্ফুটন নিশ্চিত করতে 'M' (মাইটোসিস) ও 'N' (মায়োসিস) প্রক্রিয়া দুটি সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও