জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান ক্লাসের স্যার বললেন, আমরা বুদ্ধিমত্তার সাথে জীবন ওকে প্রতিরোধ করে সুস্থভাবে বেঁচে আছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে জীবাণুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় আমাদের ত্বক এবং সর্বশেষ স্তরে Y আকৃতির বিশেষ গঠন।
- ক)(1)
সিবেসাস গ্রন্থি কি?
- খ)(2)
নন-স্পেসিফিক স্তর বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
আমাদের দেহের সুরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দেহের প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকের শেষে উল্লেখিত বিশেষ গঠনটির ভূমিকায় মুখ্য -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ত্বকের ডার্মিস স্তরে অবস্থিত যে আণুবীক্ষণিক বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে সেবাম (তৈলাক্ত পদার্থ) নিঃসৃত হয়, তাকে সিবেসাস গ্রন্থি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে কাজ না করে সব ধরনের বহিরাগত জীবাণু বা ক্ষতিকর পদার্থের বিরুদ্ধে সাধারণ ও সমান প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাকে নন-স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা স্তর বলে। মানবদেহের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর হলো নন-স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা। উদাহরণস্বরূপ— ত্বক, মিউকাস পর্দা, ফ্যাগোসাইট, জ্বর ইত্যাদি যেকোনো অনুপ্রবেশকারী জীবাণুকে বাধার সম্মুখীন করে এবং কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা নির্দিষ্টতা ছাড়াই সার্বজনীনভাবে সুরক্ষা প্রদান করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ত্বক, যা মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অন্তর্ভুক্ত। দেহের সুরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ভৌত প্রতিবন্ধক: ত্বকের বহিঃস্তর এপিডার্মিসের স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম কেরাটিনযুক্ত ও মৃত কোষে গঠিত হওয়ায় তা অত্যন্ত শক্ত ও অভেদ্য। এটি দেহে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য ক্ষতিকর অণুজীবের অনুপ্রবেশকে সরাসরি বাধা দেয়।
২. সেবাম নিঃসরণ: ত্বকের সিবেসাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সেবাম চর্বি ও ফ্যাটি অ্যাসিড ধারণ করে। এটি ত্বককে অম্লীয় (pH ৩-৫) রাখে, যা অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বংশবৃদ্ধিকে প্রতিহত করে।
৩. ঘাম নিঃসরণ: ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ঘামে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে, যা জীবাণুর প্রাচীর ধ্বংস করে তাদের বিনষ্ট করে।
৪. স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়াজনিত সুরক্ষা: ত্বকে অবস্থানরত স্বাভাবিক নিরীহ ব্যাকটেরিয়া পুষ্টির প্রতিযোগিতায় ক্ষতিকর প্যাথোজেনদের প্রতিহত করে।
অতএব, ত্বক একটি কার্যকর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক ঢাল হিসেবে মানবদেহকে বহিরাগত আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষে উল্লেখিত Y আকৃতির বিশেষ গঠনটি হলো 'অ্যান্টিবডি' (ইমিউনোগ্লোবিউলিন), যা মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের হিউমোরাল বা রসভিত্তিক প্রতিরক্ষার প্রধান উপাদান। দেহের প্রতিরক্ষায় এর ভূমিকা মুখ্য, যা নিম্নরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
১. নির্দিষ্ট প্যাথোজেন ধ্বংস: অ্যান্টিবডি সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে অ্যান্টিজেন-বাইন্ডিং সাইট (প্যারাটোপ) দ্বারা যুক্ত হয়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স গঠন করে এবং জীবাণুকে অকার্যকর করে।
২. প্রশমন (Neutralization): অ্যান্টিবডি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত টক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে এদের ক্ষতিকর কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।
৩. পপুঞ্জীভবন বা অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি একাধিক ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে গুচ্ছ বা দলায় পরিণত করে, ফলে ফ্যাগোসাইটিক কোষগুলো সহজেই সেগুলোকে গ্রাস ও ধ্বংস করতে পারে।
৪. অধঃক্ষেপণ (Precipitation): দ্রবণীয় ক্ষতিকর অ্যান্টিজেনকে অ্যান্টিবডি অধঃক্ষিপ্ত ও অদ্রবণীয় করে ফ্যাগোসাইটোসিসের পথ সুগম করে।
৫. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর বহিরাবরণকে আবৃত করে (অপসোনিন হিসেবে কাজ করে), যা ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিলের ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়াকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করে।
৬. কমপ্লিমেন্ট সক্রিয়করণ: অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তের কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যার মাধ্যমে জীবাণুর ঝিল্লি বিদীর্ণ (Lysis) হয়ে জীবাণু মারা যায়।
৭. স্মৃতিকোষের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপাদনের পাশাপাশি মেমোরি বি-কোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে একই জীবাণুর পুনরায় সংক্রমণ দ্রুত প্রতিহত করে।
সুতরাং, বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্তকরণ, নিষ্ক্রিয়করণ ও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে অ্যান্টিবডির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মুখ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও