বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এ পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে।তোমার টাকা কড়ি সুন্দর বাড়ি সবই পড়ে রবে, তোমার কর্মসাধন সৃজন পূজন তোমায় স্মরণ নেবেতুমি আর থাকবে না এই জনাকীর্ণ ভবে।

  1. ক)

    'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    "চারদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।" ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার কোন ভাবের প্রকাশ ঘটেছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই ছোট সে তরী"-'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য অভিন্ন।"- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "চারদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা"—চরণটি দ্বারা ক্ষরস্রোতা নদীর তীব্র ঘূর্ণাবর্ত এবং রূপক অর্থে মানুষের জীবনকে ঘিরে থাকা মহাকালের নিষ্ঠুর ও অনিশ্চিত বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে।

    বর্ষার ভরা নদীর স্রোত যখন দ্বীপসদৃশ ধানক্ষেতের চারপাশে তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়, তখন জলস্রোতের সেই প্রমত্ত ও কুটিল গতিকে 'বাঁকা জল' বলা হয়েছে। রূপকার্থে, এই সংসাররূপ ক্ষুদ্র দ্বীপে মানুষ একাকী বাস করে এবং তার চারপাশ ঘিরে রয়েছে কালস্রোতের রূপক বাঁকা জল, যা মানুষের অস্তিত্বকে যে কোনো সময় গ্রাস করতে উদ্যত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার দার্শনিক ভাবসত্য তথা মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং কর্মের চিরন্তনতার ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার মূল বক্তব্য হলো—মহাকালের স্রোতে মানুষের পার্থিব দেহ বা ব্যক্তি-অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু তার সৃষ্টি বা কর্ম মহাকালের তরীতে স্থান পেয়ে টিকে থাকে। কৃষক তার ফলানো সোনার ধান নৌকায় তুলে দিতে পারলেও নৌকায় নিজের স্থান হয় না; তাকে শূন্য নদীর তীরে নিঃসঙ্গ পড়ে থাকতে হয়।

    উদ্দীপকেও প্রকাশ পেয়েছে যে, এই সুন্দর পৃথিবী যেমন আছে তেমনই থাকবে, কিন্তু মানুষকে একদিন ঠিকই চলে যেতে হবে। মানুষের ধন-সম্পদ বা বাড়ি-ঘর কিছুই সাথে যাবে না; কেবল তার 'কর্মসাধন, সৃজন, পূজন' মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যক্তির নশ্বরতা এবং সৃষ্টিকর্মের অবিনশ্বরতার এই সত্যই উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার মধ্যে ভাবগত ঐক্য তৈরি করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই ছোট সে তরী"—'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য অভিন্ন—মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

    'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাকালের শাশ্বত নিয়মের কথা প্রকাশ করেছেন। মহাকালের প্রতীক 'সোনার তরী' মানুষের সৃষ্ট অনন্য কর্ম বা সোনার ধানকে স্থান দেয়, কিন্তু নশ্বর মানুষকে স্থান দিতে পারে না। তরীটি আকারে ছোট হওয়ায় সেখানে কেবল সৃষ্টির জায়গা হয়, স্রষ্টার নয়। ফলে ব্যক্তি-মানুষকে অনিবার্য মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে মহাকালের শূন্য তীরে মিলিয়ে যেতে হয়।

    উদ্দীপকেও এই একই সত্য উচ্চারিত হয়েছে। পার্থিব ধন-সম্পদ, টাকা-কড়ি বা সুন্দর বাড়ি কোনো কিছুই মানুষের মৃত্যুর সময় কাজে আসে না বা চিরস্থায়ী হয় না। মানুষ এই জনাকীর্ণ ভবে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না; তাকে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেই হয়। মহাকালের দরবারে মানুষের নশ্বর শরীর চিরতরে হারিয়ে গেলেও তার সার্থকতা টিকে থাকে কেবল তার কর্মসাধনা ও সৃষ্টির মাধ্যমে।

    অতএব, 'সোনার তরী' কবিতার উল্লিখিত চরণে ব্যক্তিস্বত্তা মহাকালের তরীতে স্থান না পাওয়ার যে চিরন্তন ট্র্যাজেডি প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকেও মানুষের পার্থিব বিলোপ এবং কর্মের টিকে থাকার অনিবার্যতা ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং চরণটি ও উদ্দীপকের ভাবসত্য নিঃসন্দেহে অভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন