যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
উদাহরণ-১: সুবর্ষণই সমৃদ্ধির কারণ।

- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ কয়টি?
- খ)(2)
পরম নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?
- গ)(3)
"উদ্দীপকে উদাহরণ-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উদাহরণ-২ এ উল্লিখিত বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরম নিয়ম হলো প্রকৃতির সর্বোচ্চ ও মৌলিক নিয়ম, যার ওপর অন্য নিয়মগুলো প্রতিষ্ঠিত কিন্তু একে কোনো উচ্চতর বা ব্যাপকতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল কাজ হলো কোনো বিশেষ বা সংকীর্ণ নিয়মকে অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা। কিন্তু পরম নিয়মের চেয়ে ব্যাপক কোনো নিয়ম না থাকায় তাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এ কারণে পরম নিয়মকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উদাহরণ-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ‘শৃঙ্খলিতকরণ’ (বা অবরোহমূলক সমন্বয়/সংযোগকরণ) রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।
কোনো আপাতদূরবর্তী কার্য ও কারণের মধ্যবর্তী অপ্রকাশিত যোগসূত্রগুলো উন্মোচন করে তাদের মধ্যে ধারাবাহিক কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাই হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলিতকরণ রূপ।
উদ্দীপকের উদাহরণ-১-এ বলা হয়েছে— ‘সুবর্ষণই সমৃদ্ধির কারণ’। আপাতদৃষ্টিতে সুবর্ষণ ও সমৃদ্ধির মধ্যে সরাসরি কোনো সরল সম্পর্ক বোঝা না গেলেও মধ্যবর্তী শৃঙ্খলগুলোর মাধ্যমে এটি ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন: সুবর্ষণের ফলে কৃষিক্ষেত্রে প্রচুর শস্য উৎপাদন হয়, শস্য উৎপাদনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে। মধ্যবর্তী এ কারণ-শৃঙ্খল উন্মোচন করার মাধ্যমে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলিতকরণ রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উদাহরণ-২-এ কার্যমিশ্রণ বা কার্যসংমিশ্রণ (বা মিশ্র কার্যের বিশ্লেষণ) রূপটির প্রতিফলন দেখা যায়, যা কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ-২-এ দেখানো হয়েছে খিচুড়ি তৈরির মূল উপাদানগুলো হলো চাল, ডাল ও মশলা। এখানে একাধিক কারণ (চাল, ডাল, মশলা, পানি, তাপ ইত্যাদি) একত্রে ক্রিয়াশীল হয়ে একটি জটিল মিশ্র কার্য ‘খিচুড়ি’ তৈরি করেছে। যুক্তিবিদ্যায় এটি সংমিশ্রণ বা যৌগিক কার্য সংক্রান্ত উদাহরণ। কার্ভেথ রিডের মতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তৃতীয় রূপটি হলো মিশ্র কার্যের বিশ্লেষণ (বা সংমিশ্রিত কার্য বিশ্লেষণ)।
কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জটিল মিশ্র কার্যের উপাদানসমূহ পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে:
১. জটিল ঘটনার ব্যাখ্যা: বাস্তব জগতে কোনো কার্যই সাধারণত একটিমাত্র স্বতন্ত্র কারণ থেকে উৎপন্ন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একাধিক কারণের সমবায়ে কার্য ঘটে। জটিল ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে হলে যৌগিক কার্যের ভেতরের পৃথক উপাদানগুলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।
২. প্রকৃত কারণ পৃথকীকরণ: চাল, ডাল ও মশলার মতো প্রতিটি স্বতন্ত্র উপাদানের নিজস্ব ধর্ম ও কার্যকারিতা জানা না থাকলে খিচুড়ি নামক সামগ্রিক কার্যের প্রকৃতি ও স্বাদ যথাযথভাবে বোঝা যায় না। তেমনি বিজ্ঞানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির যৌথ প্রভাব থেকে স্বতন্ত্র শক্তিগুলোর প্রভাব আলাদা করে দেখা হয়।
৩. বিভ্রান্তি দূরীকরণ: আপাতদৃষ্টিতে একটি জটিল কার্যকে একটিমাত্র সাধারণ কারণের ফল মনে হতে পারে। বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায় এটি একাধিক কারণের যৌথ বা সমবায়ী ফল, যা অনুপপত্তি দূর করে বিজ্ঞানসম্মত কারণ নিরূপণে সহায়তা করে।অতএব, কার্যকারণ নির্ণয়ে মিশ্র কার্যকে বিশ্লেষণ করে তার উপাদান কারণগুলোকে চিহ্নিত করার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও