অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'Y' একটি উন্নয়নশীল দেশ। গত বছর নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) এবং অপর একটি পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৬) গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকার শিক্ষার সকল স্তরে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, সকল ইউনিয়নে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান, সকল শিশুর স্কুল গমন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সকল পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
'লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূর করার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'Y' দেশের সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ কী ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে সরকারের গৃহীত পদেক্ষপসমূহ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের পূর্বনির্ধারিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও ব্যবহারের সুস্পষ্ট নকশা বা কর্মসূচিকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান আমদানি ব্যয় যখন মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন লেনদেনের ভারসাম্যে প্রতিকূলতা বা ঘাটতি দেখা দেয়। উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার সুনির্দিষ্ট কৌশলে আমদানিবিকল্প শিল্প স্থাপন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রণোদনা নির্ধারণ করতে পারে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল দ্রব্যের আমদানি হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব হয়। ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূর করা যায়। এজন্য উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'Y' দেশের সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ সময়কালের ভিত্তিতে দুই ধরনের— মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা।
অর্থনীতিতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (যেমন: পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা) এবং ১০ থেকে ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বলা হয়।
উদ্দীপকে 'Y' দেশের সরকার দুটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:
১. ২০১৬–২০২০ মেয়াদের পরিকল্পনা: এটি ৫ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা, যা অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি বা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত। স্বল্প সময়ে দেশের বিশেষ কিছু খাতকে লক্ষ্য করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
২. ২০১৬–২০৩৬ মেয়াদের পরিকল্পনা: এটি ২০ বছর মেয়াদি একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (Perspective Plan) নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
সুতরাং, 'Y' দেশের সরকার একই সঙ্গে পঞ্চবার্ষিক (মধ্যমেয়াদি) এবং প্রেক্ষিত (দীর্ঘমেয়াদি) পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা: শিক্ষার সকল স্তরে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদান তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করবে। এর ফলে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আত্মকর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে, যা বেকারত্ব দূর করে আয় বৃদ্ধি করবে।
২. সকল শিশুর স্কুল গমন নিশ্চিতকরণ: প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানবসম্পদ উন্নয়ন ঘটবে। নিরক্ষরতা দূর হলে মানুষ সচেতন হবে এবং উৎপাদনশীল কাজে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করবে, যা বংশানুক্রমিক দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে সাহায্য করে।
৩. প্রতিটি পরিবারের কমপক্ষে একজনের কর্মসংস্থান: দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হলো আয়ের অভাব। প্রতিটি পরিবার থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যের নিশ্চিত কর্মসংস্থান হলে পরিবারগুলোতে নিয়মিত আয়ের প্রবাহ নিশ্চিত হবে। এটি মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটাবে।
সুতরাং, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের সমন্বিত পদক্ষেপসমূহ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে সামগ্রিকভাবে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও