অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সাবা সদ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান যা দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। সাবার বন্ধু নিশাও অন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন যারা জনগণের অর্থ আমানত রাখে ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে।
- ক)(1)
আরভিং ফিশারের সম্প্রসারণকৃত সমীকরণটি কী?
- খ)(2)
মোবাইল ব্যাংক কীভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সহজ করেছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সাবার প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনটি কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সাবা ও নিশার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কি কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের পরিমাণ তত্ত্বের প্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদ আরভিং ফিশারের সম্প্রসারণকৃত সমীকরণটি হলো: PT = MV + M'V' (এখানে, P = সাধারণ দামস্তর, T = মোট লেনদেনের পরিমাণ, M = বিহিত অর্থের পরিমাণ, V = বিহিত অর্থের প্রচলন গতি, M' = ব্যাংক বা ঋণ অর্থের পরিমাণ এবং V' = ব্যাংক বা ঋণ অর্থের প্রচলন গতি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোবাইল ব্যাংকিং হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যাংকিং সেবা যার মাধ্যমে যেকোনো মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে গ্রাহক সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন। প্রচলিত ধারার ব্যাংকে না গিয়েও গ্রাহক নিজ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যেকোনো সময় টাকা জমা, উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারেন। ফলে সময় ও খরচের সাশ্রয় ঘটে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুত ও সহজতর হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সাবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক', কারণ এটি দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান তিনটি কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নোট ও মুদ্রা প্রচলন: দেশের কাগজী মুদ্রা ও নোট ইস্যু করার একক ও একচ্ছত্র অধিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে সংগতি রেখে এ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করে।
২. সরকারের ব্যাংক ও উপদেষ্টা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের তহবিল সংরক্ষণ করে, রাজস্ব আদায়ে সাহায্য করে এবং সরকারের পক্ষে যাবতীয় পাওনা ও দেনা পরিশোধ করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভিন্ন পলিসি প্রণয়নে সরকারকে মূল্যবান আর্থিক পরামর্শ প্রদান করে।
৩. ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য ব্যাংকের অভিভাবক: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রাসংকোচন রোধ করে। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের শেষ আশ্রয়ের স্থল হিসেবে তহবিল সরবরাহ ও নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সাবা ও নিশার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করে মতামত তুলে ধরা হলো:
উদ্দীপকে সাবার প্রতিষ্ঠানটি হলো 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক' এবং নিশার প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাণিজ্যিক ব্যাংক'। এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. উদ্দেশ্যের পার্থক্য: সাবার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন এবং দেশের মুদ্রাবাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। অন্যদিকে, নিশার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
২. মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত সরকারের মালিকানাধীন এবং দেশের মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার একক নিয়ন্ত্রক। অপরপক্ষে, বাণিজ্যিক ব্যাংক সরকারি বা বেসরকারি মালিকানাধীন হতে পারে এবং এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
৩. নোট প্রচলন ও আমানত গ্রহণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট ও মুদ্রা প্রচলনের একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে, তবে এটি জনসাধারণের নিকট থেকে সরাসরি আমানত গ্রহণ বা ঋণ দেয় না। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক নোট প্রচলন করতে পারে না; এরা সরাসরি জনসাধারণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের ঋণ প্রদান করে।
৪. ঋণ নিয়ন্ত্রণ বনাম ঋণ সৃষ্টি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে, পক্ষান্তরে বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে মুনাফা লাভ করে।সুতরাং, গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতির দিক থেকে সাবা ও নিশার প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও