‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'H' রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করে। শাসকগোষ্ঠীর এ প্রহসনমূলক ও সাজানো মামলা ঐ আন্দোলনকে আরো বেগবান করে। এ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় ছাত্রদের কিছু দাবি। ফলে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে এ গণআন্দোলন। অবশেষে এ আন্দোলনের মুখে টিকতে না পেরে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    আগরতলা মামলায় মোট কতজন আসামী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ছয় দফা কর্মসূচির দুটি দফা বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন আসামী ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচির দুটি গুরুত্বপূর্ণ দফা হলো:
    ১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইনসভা গঠিত হবে।
    ২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে—দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর মিল পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদের দাবি যুক্ত হয়ে আন্দোলন তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব খান সরকার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করতে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে মাঠে নামে এবং তা দ্রুত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও নেতার মুক্তি: তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার তথাকথিত আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়। কারামুক্তির পর ছাত্র-জনতা তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
    ২. আইয়ুব খানের পতন: গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।
    ৩. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন: আন্দোলনের ফলেই ইয়াহিয়া খান প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন, যেখানে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একচেটিয়া বিজয় অর্জন করে।
    ৪. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি: এই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতীয়তাবাদকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপান্তর ঘটে এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন