বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে চতুর ও উচ্চাভিলাষী চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরে আলেকজান্ডারের সাথে সাক্ষাৎ করে নন্দবংশের উৎখাতের জন্য তার সাহায্য কামনা করে। আলেকজান্ডার চন্দ্রগুপ্তের ধৃষ্টতায় রুষ্ট হয়ে তার প্রাণদণ্ড দিলেও সে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। পরে বিচক্ষণ কূটনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ চাণক্যের পরামর্শে নন্দবংশ ধ্বংসপূর্বক সিংহাসনে আরোহণ করে চন্দ্রগুপ্ত।

  1. ক)

    পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার পক্ষে কত হাজার সৈন্য ছিল?

    (1)
  2. খ)

    'এ সময়ে এভাবে আসা খুবই বিপদজনক' - উক্তিটির কারণ বিশ্লেষণ কর?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের সাথে মিরজাফরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও রবার্ট ক্লাইভের ধূ্র্ততাই বেশি।’ মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে প্রায় পঞ্চাশ হাজার সৈন্য ছিল (যার মধ্যে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার পদাতিক ও পনেরো হাজার অশ্বারোহী)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি করেছিলেন উমিচাঁদ, নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের প্রধান সেনাপতি মিরজাফরের বাসায় লর্ড ক্লাইভের দূত ওয়াটস গোপনে সাক্ষাৎ করতে আসার প্রেক্ষিতে।

    নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে চক্রান্তকারী মিরজাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ গোপনে চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করছিলেন। সে সময় মিরজাফরের প্রাসাদে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসের পালকি চড়ে বোরখা পরে ছদ্মবেশে আসা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নবাবের গুপ্তচরদের চোখে ধরা পড়লে ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে তাদের জীবন ও পরিকল্পনা উভয়ই চরম বিপদে পড়ত। এই আশঙ্কায় উমিচাঁদ কথাটি বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের ক্ষমতালাভের তীব্র উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিজ দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে বহিঃশত্রুর সাহায্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে।

    সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, মিরজাফর ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। কিন্তু তার অন্তরে ছিল নবাব হওয়ার প্রবল লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এই ক্ষমতা দখলের জন্য তিনি স্বদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে গোপনে হাত মেলান এবং নবাবকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

    উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তও চতুর ও উচ্চাভিলাষী হয়ে নিজ দেশের নন্দবংশকে উৎখাত করতে বিদেশি গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডারের শরণাপন্ন হন। উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের মতো নাটকের মিরজাফরও নিজ শাসকের পতন ঘটিয়ে মসনদে বসার জন্য বিদেশি শক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সুতরাং, ক্ষমতার লিপ্সা ও নিজ দেশের শাসককে উৎখাত করতে বহিঃশত্রুর সাহায্য নেওয়ার দিক থেকে মিরজাফরের সাথে চন্দ্রগুপ্তের গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের সাথে মিরজাফরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রবার্ট ক্লাইভের কূটকৌশল ও ধূর্ততাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মিরজাফরের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলার নবাবের সিংহাসনে আরোহণ করা। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দিতেও দ্বিধা করেননি। উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তও নন্দবংশ উৎখাত করে রাজসিংহাসন দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বিদেশি শক্তির সাহায্য চেয়েছিলেন। উভয়ের মধ্যেই ক্ষমতার লোভ প্রবল ছিল।

    তবে নাটকে লক্ষ করা যায়, মিরজাফর সিংহাসন লাভের আশায় থাকলেও পুরো পরিস্থিতির মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন ধূর্ত ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ। ক্লাইভ ভারতীয় ষড়যন্ত্রকারীদের দুর্বলতা ও উচ্চাভিলাষকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। এমনকি উমিচাঁদকে ঠকাতে তিনি জাল দলিল তৈরি করতেও পিছপা হননি। মিরজাফরকে পুতুল নবাব বানিয়ে ক্লাইভ কার্যত বাংলার সার্বভৌম ক্ষমতা ইংরেজদের করায়ত্ত করেন। মিরজাফর নিজেকে সফল মনে করলেও তিনি ছিলেন ক্লাইভের হাতের ক্রীড়নক মাত্র।

    অতএব, উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্ত ও মিরজাফরের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার মিল দৃশ্যমান হলেও পলাশির চক্রান্ত ও বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ক্লাইভের ধূর্ত কূটনীতি ও দূরভিসন্ধিই ছিল সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রভাবশালী। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন