‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তাকে তার বাবা প্রতি মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। একদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ‘ক’ এর জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকের মাধ্যমে তার বাবা টাকা পাঠাতে পারলেন না। অতঃপর তিনি পাশের দোকান থেকে ছেলেকে টাকা পাঠালেন।

  1. ক)

    আমানত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দ্রব্যমূল্যের পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্য পরিবর্তনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে পাশের দোকানের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পদ্ধতির সুবিধাসমূহ লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    সাধারণ ব্যাংকিং পদ্ধতি ও দোকানের পদ্ধতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসাধারণ তাদের সঞ্চিত অর্থ নিরাপত্তার স্বার্থে বা মুনাফা/সুদ অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে যে হিসাবে জমা রাখে, তাকে আমানত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্রব্যমূল্যের পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্যের একটি বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।

    অর্থের মূল্য বলতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করা যায় তাকে বোঝায়। দ্রব্যমূল্যের সাধারণ স্তর বৃদ্ধি পেলে একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা পাওয়া যায়, ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, দ্রব্যমূল্য হ্রাস পেলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, দ্রব্যমূল্যের পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্যের সম্পর্ক বিপরীতমুখী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে পাশের দোকানের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পদ্ধতিটি মূলত ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’ (MFS) বা এজেন্ট ব্যাংকিং। এর প্রধান সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:

    ১. সার্বক্ষণিক ও তাৎক্ষণিক লেনদেন: সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির দিনসহ যেকোনো সময় তাৎক্ষণিকভাবে ২৪/৭ অর্থ প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়।
    ২. জরুরি প্রয়োজনে সহায়ক: উদ্দীপকে 'ক'-এর ছুটির দিনে তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজনে কোনো আনুষ্ঠানিক বিলম্ব ছাড়াই দোকান থেকে অর্থ পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
    ৩. সহজলভ্যতা ও দ্রুত পৌঁছানো: প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ পাড়া-মহল্লার যেকোনো এজেন্টের দোকান থেকে অতি সহজে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে অর্থ পৌঁছানো যায়।
    ৪. কাগজি জটিলতাহীনতা: প্রচলিত ব্যাংকের মতো দীর্ঘ ফরম পূরণ, চেকে স্বাক্ষর বা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার ঝামেলা থাকে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ ব্যাংকিং পদ্ধতি এবং উদ্দীপকে বর্ণিত দোকানের পদ্ধতি (মোবাইল ব্যাংকিং/এজেন্ট ব্যাংকিং)-র মধ্যে উল্লেখযোগ্য তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. সময় ও প্রাপ্যতা: সাধারণ ব্যাংকিং নির্দিষ্ট সময়সূচি (যেমন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা) এবং কর্মদিবসে পরিচালিত হয়, ছুটির দিনে লেনদেন বন্ধ থাকে। পক্ষান্তরে, দোকানের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল লেনদেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সপ্তাহের যেকোনো দিন ও রাতে সম্পন্ন করা যায়।
    ২. লেনদেনের প্রকৃতি ও পরিমাণ: সাধারণ ব্যাংকিং বৃহৎ আকারের বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন, ঋণ গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, দোকানের মাধ্যমে প্রধানত ব্যক্তিগত ও ক্ষুদ্র পরিমাণের লেনদেন দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়।
    ৩. প্রক্রিয়াগত সুবিধা: সাধারণ ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলা, চেকে স্বাক্ষর ও নির্দিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলতে হয় যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। কিন্তু দোকানের মাধ্যমে লেনদেনে কোনো দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে অর্থ পাঠানো যায়।
    ৪. ব্যয় বা চার্জ: সাধারণ ব্যাংকিংয়ে নগদ টাকা জমা বা উত্তোলনে সাধারণত খরচ কম বা ফ্রি হয়, তবে এজেন্ট/দোকানের মাধ্যমে ক্যাশ-আউটে নির্দিষ্ট হারে ফি প্রযোজ্য হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ও বৃহৎ লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যাংকিং অপরিহার্য হলেও দৈনন্দিন ক্ষুদ্র লেনদেন ও উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক'-এর মতো জরুরি প্রয়োজনে দোকানের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দ্রুততম মাধ্যম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন