হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
- ক)(1)
পৌরাণিক দেবতা কাকে বলে?
- খ)(2)
ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ এর উল্লিখিত দেবীর পূজা কীভাবে করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-২ উল্লিখিত উৎসবটির শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পুরাণে যেসব দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁদের পৌরাণিক দেবতা বলে। যেমন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী।
- খ)
ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতাকে দেবতা বলে।
ঈশ্বর সীমাহীন গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলা হয়। যেমন ব্রহ্মা সৃষ্টির, বিষ্ণু পালনের এবং শিব প্রলয়ের দেবতা। দেবতারা ঈশ্বর নন, তাঁরা একই ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণের প্রকাশ। - গ)
চিত্র-১-এ উল্লিখিত দেবী হলো শীতলা (গর্দভবাহনা)। তাঁর পূজার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো।
দেবীর পরিচয়: শীতলা লৌকিক দেবী। তিনি রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার দেবী। তিনি মহামারি প্রতিরোধ করেন ও প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। বসন্ত, কলেরা প্রভৃতি মহামারির সময় বিশেষ করে তাঁর পূজা করা হয়।
পূজা পদ্ধতি: হিন্দুধর্মে পূজা মানে ঈশ্বরের কোনো রূপকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তিসহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসী বা বিল্বপত্র, চন্দন, আতপচাল, ধূপ ও দীপ দিয়ে অর্চনা করা। শীতলা পূজাও এই নিয়মে হয়। পুরোহিত সংকল্প করে বিধিমতো পূজা করেন। এরপর ভক্তরা ভক্তিপূর্ণ মনে পুষ্পাঞ্জলি দেন এবং নির্দিষ্ট প্রণামমন্ত্র উচ্চারণ করে প্রণাম জানান। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
শিক্ষা: এই পূজার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন হয়।
- ঘ)
চিত্র-২-এ উল্লিখিত উৎসবটি হলো দুর্গাপূজা। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর শিক্ষা মূল্যায়ন করা হলো।
দুর্গাপূজা হিন্দুদের সর্ববৃহৎ উৎসব। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এটি অনুষ্ঠিত হয়। এ পূজা মহিষাসুরের মতো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়ের স্মারক।
১. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিলে দেবী দুর্গা তাকে বধ করেন। বিজয়া দশমী অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন। এ থেকে আমরা শিখি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রণামমন্ত্রও এ শিক্ষা দেয়।
২. ঐক্য ও সংঘবদ্ধতা: দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ। তাই এ পূজা ঐক্যের প্রতীক। সবাই মিলে কাজ করলে বড় অশুভ শক্তিকেও পরাজিত করা যায়।
৩. নারীর প্রতি শ্রদ্ধা: অষ্টমীতে কুমারী পূজায় নারীকে মাতৃরূপে ও ঈশ্বরীরূপে ভাবা হয়, যা নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ জাগায়।
৪. সম্প্রীতি ও আনন্দ: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এতে অংশ নেয়। বিজয়ার আলিঙ্গন ও মিষ্টিমুখ পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়। পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ দেয়।সুতরাং, দুর্গাপূজা আমাদের শক্তি, ঐক্য, ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও