সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' নামক রাষ্ট্রে ২০১২ সালে একটি নীতি প্রণয়ন করা হয়। এ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, নারী-পুরুষের সমতা, মানুষকে সম্পদে পরিণত করা, প্রজননস্বাস্থ্য সহজলভ্য করা ইত্যাদি।
- ক)(1)
সর্বশেষ কখন জাতীয় শিশু নীতি গ্রহণ করা হয়?
- খ)(2)
সামাজিক পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'ক' নামক রাষ্ট্রে প্রণীত নীতির সাথে বাংলাদেশে প্রণীত কোন বাঙ সম জন পি নী সামাজিক নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জাতীয় উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নীতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১১ সালে 'জাতীয় শিশু নীতি' প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তন বলতে সমাজকাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, মূল্যবোধ, এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও জীবনযাত্রার ধরনের সামগ্রিক রূপান্তরকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞানী স্যামুয়েল কোয়েনিগ-এর মতে, মানুষের জীবনধারায় যে পরিবর্তন সূচিত হয়, তাই সামাজিক পরিবর্তন। শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাবে সমাজের এই পরিবর্তন নিরবচ্ছিন্নভাবে সাধিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' নামক রাষ্ট্রে প্রণীত নীতির সাথে বাংলাদেশে প্রণীত 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি, ২০১২'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো—পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, নারী-পুরুষের সমতা বিধান, মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তর এবং প্রজননস্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করা।
বাংলাদেশে ২০১২ সালে সমন্বিত ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০১২' অনুমোদন করা হয়। এই নীতির মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, শতভাগ মানুষের কাছে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করে প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নীতিটি বাংলাদেশের 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি, ২০১২'-কেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি'-র গুরুত্ব অপরিসীম।
যেকোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে জনসংখ্যা নিবিড়ভাবে জড়িত। অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সীমিত সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যহীনতা ও নিরক্ষরতার জন্ম দেয়। উদ্দীপকে নির্দেশিত জনসংখ্যা নীতি পরিকল্পিত উপায়ে এই সংকটগুলো সমাধানের পথ নির্দেশ করে।
প্রথমত, এ নীতি পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য সেবার প্রসারের মাধ্যমে জনসংখ্যার কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য রক্ষা করে। দ্বিতীয়ত, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস করে এবং পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সহায়তা করে। তৃতীয়ত, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নের ফলে নারীরা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সর্বোপরি, অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এ নীতির অন্যতম অঙ্গীকার।
অতএব, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই জনসংখ্যা নীতির সঠিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও