‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

গোলাম মাহবুব একজন ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিদিন তার পণ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার করেন। একবার ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের জন্য জরিমানা ও করেন।

  1. ক)

    দুর্নীতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ কেন দুর্নীতি করে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গোলাম মাহবুব এর কর্মকান্ড তোমার পঠিত কোন সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নাগরিক সমস্যা নিরসনকল্পে তোমার সুপারিশ লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে নিজের অর্পিত ক্ষমতা বা পদের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা অন্যায্য সুবিধা অর্জন করাকে দুর্নীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ মূলত নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়, তীব্র লোভ এবং অসৎ উপায়ে দ্রুত ধনী হওয়ার মানসিকতা থেকে দুর্নীতি করে থাকে।

    এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাব, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের দুর্বলতা, দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং ভোগবাদী মানসিকতার কারণে মানুষ দুর্নীতির পথে ধাবিত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে অপর্যাপ্ত আয় বা আর্থিক অসচ্ছলতাও দুর্নীতির কারণ হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গোলাম মাহবুবের কর্মকাণ্ডটি আমাদের সমাজে বিদ্যমান অন্যতম নাগরিক সমস্যা 'খাদ্যে ভেজাল' বা ভেজাল মেশানোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    খাদ্যে বা পণ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা নিম্নমানের উপাদান মেশানোই হলো ভেজাল সমস্যা। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ী গোলাম মাহবুব প্রতিদিন পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন এবং এর কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানাও করে। এই আচরণটি নীতিহীন ব্যবসায়ীদের খাদ্যে ও পণ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা ভেজাল মেশানোর কুপ্রবৃত্তির সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। সুতরাং, গোলাম মাহবুবের কাজ পাঠ্যপুস্তকের খাদ্যে ভেজাল সমস্যারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্যে বা পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর মতো মারাত্মক নাগরিক সমস্যা নিরসনে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে:

    ১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শুধু জরিমানা নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ২. বিএসটিআই-এর নজরদারি বৃদ্ধি: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করে পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ পর্যায়ে কঠোর রাসায়নিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৩. ক্ষতিকর রাসায়নিকের সহজলভ্যতা রোধ: ফরমালিন, কার্বাইডসহ শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক খোলাবাজারে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে।
    ৪. ব্যবসায়ীদের নৈতিক শিক্ষা ও কাউন্সেলিং: ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বারগুলোর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যবসায়িক নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
    ৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি: গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করতে হবে।

    আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সমস্যা দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন