বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বষণ্ণ বিরহী বাতাস মনের জানালায় দেয় উঁকি। উন্মাদ মন আজ মাধবীর। পড়ন্ত বিকেলে দখিনের বারান্দায় বেদনার রাগিনী ওঠে তার। শোকের পাথার বেয়ে আসে বসন্ত। চৈত্রের খরায় শুকিয়ে গেছে বুক। সেখানে শুধু ধু ধু বালুচর। নেই তাতে জল, আছে কষ্টের হলাহল। শীতের শুষ্কতা মুছে বসন্তের শূন্যতা চেপে ধরেছে তারে। কারণ মাঘের শীতে প্রিয়জন তার গিয়েছে চলে না ফেরার দেশে।

  1. ক)

    কবি সুফিয়া কামালের প্রথম স্বামীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।’-চরণটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ‘মাধবী’ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির ব্যক্তি চরিত্রেরছায়াচিত্র।”- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি সুফিয়া কামালের প্রথম স্বামীর নাম সৈয়দ নেহাল হোসেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চরণটি দ্বারা ভক্ত বা কবির গুণগ্রাহীর পক্ষ থেকে কবিকে বসন্তের আগমন উপলক্ষে বন্দনাগান বা কবিতা রচনার অনুরোধ প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মনে ছিল গভীর বিষাদ ও উদাসীনতা। তিনি শীতের রিক্ততা ও প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আচ্ছন্ন থাকায় বসন্তের রূপ-সৌন্দর্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারছিল না। তাই কবির সৃষ্টিশীলতার নীরবতা ভেঙে তাঁর সুললিত কণ্ঠে বসন্তের বন্দনা শোনার জন্য ভক্ত-শ্রোতা এই বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক, শূন্যতাবোধ এবং বিষাদময় উদাসীনতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল তাঁর জীবনের এক পরম বেদনাবিধুর বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। বসন্ত ঋতু প্রকৃতিতে বিপুল সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হলেও কবির অন্তরে বিরাজ করছে শীতের রিক্ততা ও শোকের হাহাকার। কারণ কবির সাহিত্যসাধনার প্রধান প্রেরণা তাঁর প্রথম স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তর জুড়ে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, যা তাঁকে প্রকৃতির অপরূপ রূপ থেকেও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, বসন্তের আগমন ঘটলেও প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর বেদনায় মাধবীর মন ব্যাকুল ও উন্মাদ হয়ে ওঠে। তার হৃদয়ে যেন চৈত্রের খরা ও শোকের বালুচর বিরাজমান, কারণ মাঘের শীতেই তার প্রিয়জন না-ফেরার দেশে চলে গেছে। উদ্দীপকের এই শোকের আবহ ও প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল সুরের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের ‘মাধবী’ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির ব্যক্তি চরিত্রের ছায়াচিত্র"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত জীবনের এক মর্মন্তুদ ট্র্যাজেডি রূপ লাভ করেছে। ১৯৩২ সালে কবির স্বামী ও সাহিত্যসাধনার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকালমৃত্যু ঘটে। এই বিয়োগব্যথায় কবি নিমজ্জিত হয়ে পড়েন গভীর বিষাদে। বসন্ত ঋতুর অপরূপ আগমনী বার্তাও তাঁর হৃদয়ের সেই পাথরসমান শোককে দূর করতে পারে না। কবিতায় কবি-মন রিক্ততা ও হাহাকারে আচ্ছন্ন থাকায় তিনি প্রকৃতিবিমুখ হয়ে পড়েন এবং বারবার অতীতস্মৃতি ও বিয়োগবেদনাতেই নিমজ্জিত থাকেন।

    উদ্দীপকের 'মাধবী' চরিত্রটির মধ্যেও একই ধরনের মানসিক অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও মাধবীর মনের জানালায় দোলা দেয় বিরহী বাতাস। তার ভেতরে কেবলই বেদনার রাগিনী বাজে। শীতের মৌসুমে প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর ফলে তার অন্তর মরুভূমির বালুচরের মতো রিক্ত ও শূন্যতায় ভরে উঠেছে। কবির জীবনে যেমন মাঘের সন্ন্যাসীর মতো স্বামী চলে গিয়ে রিক্ততা সৃষ্টি করেছিল এবং কবি বসন্তকে বরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, মাধবীর অবস্থাও ঠিক তদ্রূপ।

    সুতরাং দেখা যায়, স্বজন হারানোর হাহাকার, অন্তরের রিক্ততা এবং প্রকৃতির আনন্দময় মুহূর্তেও শোকের অতলে ডুবে থাকার দিক থেকে মাধবী চরিত্রটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির ব্যক্তিমানস ও চরিত্রের এক সার্থক ছায়াচিত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন