বিজ্ঞান • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বিজ্ঞান প্রশ্ন
নাজমা বেগমের বাড়িতে নলকূপ না থাকায় তিনি বাড়ির পাশের পুকুরের ঘোলা পানিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্নার উপযোগী করেন। একটু বৃষ্টিপাতে পুকুরের পানি আরো ঘোলা হয়। এ পানি পরীক্ষা করে ph এর মান ৪.৮ পাওয়া যায়। পুকুরটিতে তেমন কোনো জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী নেই
- ক)(1)
পানির স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
- খ)(2)
জলজ প্রাণীরা কীভাবে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নাজমা বেগম উদ্দীপকে উল্লিখিত পানিকে কীভাবে রান্নার উপযোগী করেন? উক্ত প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা না যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে তাপমাত্রায় বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে সেই তরলের স্ফুটনাঙ্ক বলে। পানির স্ফুটনাঙ্ক প্রায় ১০০° সেলসিয়াস।
- খ)
জলজ প্রাণীরা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়। যেমন- মাছ ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়। ফুলকা এমনভাবে তৈরি যে এটি শুধু পানি থেকেই অক্সিজেন নিতে পারে, বাতাস থেকে নয়। এজন্য মাছকে পানি থেকে তুললে সে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গেলে জলজ প্রাণীদের শ্বাসকার্য ব্যাহত হয়।
- গ)
নাজমা বেগম পুকুরের ঘোলা পানিকে পরিস্রাবণ ও স্ফুটন প্রক্রিয়ায় রান্নার উপযোগী করেন।
১. পরিস্রাবণ: এটি তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থ আলাদা করার প্রক্রিয়া। ঘোলা পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে বা সূক্ষ্ম কাপড়ের ভেতর দিয়ে পার করা হয়। তখন পানিতে অদ্রবণীয় ধুলাবালি ও ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায় এবং পানি স্বচ্ছ হয়।
২. স্ফুটন: পরিস্রুত পানিতে রোগজীবাণু থাকতে পারে। তাই পানিকে ফুটানো শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে জীবাণু ধ্বংস হয়ে পানি নিরাপদ হয়। বাসাবাড়িতে এটি সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি।
এর পরিবর্তে ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে ক্লোরিনেশনও করা যায়।
- ঘ)
উদ্দীপকের পুকুরে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা না যাওয়ার প্রধান কারণ পানির অম্লত্ব (pH ৪.৮) এবং ঘোলাটে হওয়া।
১. pH কম হওয়া: নদী বা পুকুরের পানির pH ৬-৮ এর মধ্যে থাকলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের কোনো সমস্যা হয় না। পুকুরের pH ৪.৮ এই সীমার অনেক নিচে। পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বের হয়ে যায়, ফলে মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হয়। মাছের ডিম ও পোনা কম pH-এ বাঁচতে পারে না।
২. ঘোলা পানি: পানি ঘোলা হলে সূর্যের আলো পানির নিচের উদ্ভিদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, ফলে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে এবং অক্সিজেন তৈরি বন্ধ হয়। অক্সিজেনের অভাব ও খাবার সংগ্রহে অসুবিধার কারণে মাছসহ অন্য প্রাণীও বাঁচতে পারে না। বৃষ্টিতে আরও ঘোলা হওয়া এই সমস্যা বাড়ায়।
সুতরাং, কম pH ও ঘোলা পানির সম্মিলিত প্রভাবেই পুকুরে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও