ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কাজী পরিবারের গৃহভৃত্য মারুফ অত্যন্ত মেধাবী ও সাহসী ছিলেন। কাজী সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানেরা মারুফকে জনৈক দাস। ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রয় করেন। পশ্চিমাঞ্চলের অধিপতি ঐ দাস। ব্যবসায়ীর নিকট হতে মারুফকে ক্রয় করেন এবং তাঁর মেধা ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। ইতোমধ্যে মারুফ পার্শ্ববর্তী পূর্বাঞ্চল রাজ্য জয় করেন। আকস্মিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল। অধিপতির মৃত্যু হলে পরবর্তী শাসক মারুফকে দাসত্বমুক্ত করেন এবং বিজিত পূর্বাঞ্চলের স্বাধীন শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সামান্য অবস্থা থেকে নিজ দক্ষতা, মেধা ও বুদ্ধিমত্তায় গৃহভৃত্য মারুফ পূর্বাঞ্চলে স্বাধীন শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
- ক)(1)
'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মারুফের প্রাথমিক জীবন দিল্লির কোন সুলতানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সুলতানের কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইবেক' একটি তুর্কি শব্দ, যার অর্থ 'চন্দ্রমুখী' বা 'চাঁদের মতো সুন্দর' (বা চাঁদের দেবতা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রিষ্টাব্দ) ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
এ যুদ্ধে গজনির সুলতান মুইজুদ্দীন মুহাম্মদ ঘুরী দিল্লির চৌহান বংশীয় রাজপুত রাজা তৃতীয় পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত ও হত্যা করেন। প্রথম তরাইনের যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত হলেও দ্বিতীয় যুদ্ধে তাঁর রণকৌশলের মাধ্যমে জয়লাভ করেন। এই বিজয়ের ফলে উত্তর ভারতে রাজপুতদের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের সূচনা তথা দিল্লি সালতানাতের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মারুফের প্রাথমিক জীবন দিল্লির প্রথম মুসলিম শাসক ও দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কুতুবউদ্দিন আইবেক শৈশবে তুর্কিস্তানে এক কাজীর নিকট ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হন। নিশাপুরের কাজী ফখরুদ্দীন আবদুল আজিজ কুফি তাঁর প্রতিপালন করেন এবং তাঁকে ধর্মীয় ও সামরিক শিক্ষা দেন। কাজীর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরিরা আইবেককে এক দাস ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে গজনির শাসক মুহাম্মদ ঘুরী তাঁকে ক্রয় করেন। আইবেক তাঁর মেধা, বিশ্বস্ততা ও রণনৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরী কর্তৃক সেনাপতি পদে উন্নীত হন এবং ভারতে ঘুরীর বিজিত পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের শাসনভার লাভ করেন।
উদ্দীপকের মারুফও কাজী পরিবারের এক কৃতী গৃহভৃত্য ছিলেন। কাজীর মৃত্যুর পর তাঁকে এক দাস ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলের অধিপতি তাঁকে কিনে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ সেনাপতি নিযুক্ত করেন। পরে তিনি পূর্বাঞ্চল জয় করেন। এই ঐতিহাসিক গতিপ্রকৃতি হুবহু সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের বাল্যকাল ও প্রাথমিক জীবনের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন ভারতবর্ষে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা এবং দিল্লি সালতানাতের গোড়াপত্তনকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
কুতুবউদ্দিন আইবেকের ঐতিহাসিক কৃতিত্বসমূহ নিম্নরূপ:
১. স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা: ১২০৬ সালে সুলতান মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবেক দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ করেন এবং লাহোরকে রাজধানী করে স্বাধীন দিল্লি সালতানাত (দাস বা মামলুক বংশ) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেকে মধ্য এশীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতীয় সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।
২. বিজিত অঞ্চল রক্ষা ও সম্প্রসারণ: তিনি তাঁর সেনাপতি বখতিয়ার খলজি, তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ ও নাসিরুদ্দীন কুবাচার সম্ভাব্য বিদ্রোহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করে দিল্লি ও সংলগ্ন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ডে মুসলিম আধিপত্য সুদৃঢ় করেন।
৩. দানশীলতা ও প্রজাবৎসলতা: তিনি অত্যন্ত দানশীল ও প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন। মুক্তহস্তে বিপুল অর্থ দান করার কারণে সমকালীন ইতিহাসে তিনি 'লাখবখশ' বা 'লক্ষদাতা' নামে আখ্যায়িত হন।
৪. স্থাপত্যকলার বিকাশ: তিনি দিল্লিতে 'কুওয়াতুল ইসলাম' মসজিদ এবং আজমিরে 'আড়াই দিন কা ঝোপড়া' মসজিদ নির্মাণ করেন। এ ছাড়া বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির স্মৃতিতে দিল্লির বিখ্যাত 'কুতুব মিনার'-এর নির্মাণকাজ শুরু করেন।সামান্য এক দাস থেকে নিজ যোগ্যতা, সততা ও সামরিক প্রতিভার দ্বারা কুতুবউদ্দিন আইবেক একটি বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের মারুফের মতোই তিনি শূন্য থেকে উঠে এসে স্বাধীন ও সুসংহত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও