বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মানিক যখন দুধের শিশু, তখন তার বাপ-মা মারা যায়। নরেশ সেই দুধের শিশু মানিককে সন্তান স্নেহে প্রতিপালন করে। নরেশের স্ত্রী নিজের সন্তানের মত করেই মানিককে লালন পালন করেছে। একদিন গ্রামের মাতব্বরের প্ররোচনায় মানিক টাকার লোভে নরেশ দম্পতির একমাত্র পুত্র রতনকে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করে। পরে জানা গেছে মাতব্বরের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ভয়ে রতনকে খুন করায় মানিককে দিয়ে। তার বিনিময়ে মানিককে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয় মাতব্বর। রতনকে খুন করার সময় মানিকের বাল্যস্মৃতি অর্থের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে।
- ক)(1)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন অঙ্কের কোন দৃশ্যে পলাশী যুদ্ধের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে?
- খ)(2)
মিরনের ভাষ্য মতে সিরাজউদ্দৌলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মানিক চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"অর্থের লোভ মানুষকে কৃতঘ্ন করে তোলে" উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক অবলম্বনে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের তৃতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে পলাশী যুদ্ধের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিরনের ভাষ্য মতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা জীবিত থাকলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকবে না এবং যেকোনো মুহূর্তে গণঅভ্যুত্থান বা বিদ্রোহ হতে পারে—এ আশঙ্কায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আবশ্যক।
মিরন সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মূল করার মধ্য দিয়ে মীর জাফরের সিংহাসন নিষ্কণ্টক করতে চেয়েছিল। সিরাজের জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা যেন নতুন নবাবের মসনদকে হুমকির মুখে না ফেলে, সেই যুক্তিতে মিরন সিরাজকে বাঁচিয়ে রাখা বিপজ্জনক মনে করে তার মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানিক চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক ঘাতক মোহাম্মদী বেগ চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
নাটকে দেখা যায়, মোহাম্মদী বেগ সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের আশ্রয়ে পালিত হয়েছিল। নবাব আলীবর্দী খাঁ ও নবাবের পরিবার তাকে লালনপালন করে মানুষ করেছিলেন। কিন্তু মিরনের অর্থের প্রলোভন ও নিজস্ব স্বার্থপরতায় সে সেই অতীত অনুগ্রহ ভুলে যায় এবং বন্দি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিজ হাতে নির্মমভাবে হত্যা করে।
উদ্দীপকের মানিককেও তার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর নরেশ দম্পতি সন্তানস্নেহে লালনপালন করে বড় তোলে। কিন্তু মাতব্বরের দেওয়া টাকার লোভে মানিক তার প্রতিপালকের একমাত্র পুত্র রতনকে নির্দ্বিধায় হত্যা করে। অতীতে পাওয়া স্নেহ-ভালোবাসা অর্থের কাছে বিসর্জন দিয়ে কৃতঘ্নতার পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে মানিক চরিত্রটি মোহাম্মদী বেগের সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"অর্থের লোভ মানুষকে কৃতঘ্ন করে তোলে"—উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোহাম্মদী বেগ নবাব পরিবারের চরম স্নেহ ও উপকারে বড় হয়েও মিরনের প্রতিশ্রুত অর্থের বিনিময়ে বন্দি সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। সিরাজ তাকে অতীতে তার পরিবার কর্তৃক প্রতিপালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও লোভের অন্ধ মোহ তার বিবেক ও কৃতজ্ঞতাবোধকে সম্পূর্ণরূপে মুছে দিয়েছিল। একইভাবে মীর জাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ অর্থের লোভ ও ক্ষমতার মোহে দেশ ও নবাবের প্রতি চরম কৃতঘ্নতা দেখিয়েছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মানিক অনাথ অবস্থায় নরেশ দম্পতির স্নেহে বড় হয়। কিন্তু মাতব্বরের পঞ্চাশ হাজার টাকার প্রলোভনে সে নরেশের একমাত্র পুত্র রতনকে খুন করে। অর্থের লোভ তার শৈশবের সব স্মৃতি ও নরেশ দম্পতির অসীম ভালোবাসার ঋণকে এক নিমেষে পদদলিত করে তাকে চরম কৃতঘ্ন ও নরঘাতকে পরিণত করে।
অতএব, উদ্দীপকের মানিকের আচরণ এবং নাটকের মোহাম্মদী বেগের বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণ করে যে, অর্থের লোভ মানুষের মানবিক অনুভূতি ও কৃতজ্ঞতাবোধকে ধ্বংস করে তাকে নিকৃষ্ট অকৃতজ্ঞ ও বিশ্বাসঘাতকে পরিণত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও