যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

তথ্য-১: চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়।তথ্য-২: রাহু নামক বিরাট দৈত্য যখন চাঁদকে গ্রাস করে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়।

  1. ক)

    শৃঙ্খলযোজন কী?

    (1)
  2. খ)

    মনের মৌলিক অনুভূতিগুলো ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    তথ্য-১ এ কোন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তথ্য-১ ও তথ্য-২ এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক নিয়মের মধ্যবর্তী পর্যায়সমূহ আবিষ্কার করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলযোজন (Concatenation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনের মৌলিক অনুভূতিগুলো সরল, স্বয়ংসিদ্ধ এবং অবিভাজ্য হওয়ায় বৈজ্ঞানিক নিয়মে তাদের ব্যাখ্যা করা যায় না।

    যুক্তিবিদ্যায় কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা করার অর্থ হলো তাকে কোনো উচ্চতর বা অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনা কিংবা তার উপাদান বিশ্লেষণে কার্যকারণ অনুসন্ধান করা। কিন্তু সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা, ভয় প্রভৃতি মনের মৌলিক অনুভূতিগুলোকে আর কোনো সহজতর বা সরল অনুভূতির সমষ্টিতে রূপান্তর করা যায় না বা তাদের উপাদান বিশ্লেষণ করা যায় না। এছাড়া এগুলোর অস্তিত্ব সরাসরি আত্ম-চেতনা দ্বারা প্রত্যক্ষ হয় বলে এদের অন্য কোনো সার্বিক নিয়মে অন্তর্ভুক্তি বা শৃঙ্খলযোজন সম্ভব হয় না। তাই মনের মৌলিক অনুভূতি ব্যাখ্যাতীত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-১-এ ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’র প্রতিফলন ঘটেছে।

    কোনো ঘটনার কার্যকারণ সূত্র আবিষ্কার করে প্রকৃতির সার্বিক নিয়মের সাথে তাকে সংযুক্ত বা সমন্বিত করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। এতে কোনো অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক কারণের স্থান নেই, বরং পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর নিয়মের সাহায্যে ঘটনা স্পষ্ট করা হয়।

    উদ্দীপকের তথ্য-১-এ বলা হয়েছে: “চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়।” এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত আলোর সরলরৈখিক গতি ও ছায়ার নিয়ম দ্বারা পরিচালিত একটি প্রাকৃতিক কার্যকারণ প্রক্রিয়া। এখানে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ার ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মের সাহায্যে চন্দ্রগ্রহণের কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো প্রকার অন্ধবিশ্বাস বা কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে ঘটনাটি প্রকাশ করায় এটি যথার্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য-১-এ ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’ এবং তথ্য-২-এ ‘লৌকিক ব্যাখ্যা’ নির্দেশিত হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এ দুই ধরনের ব্যাখ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

    ১. কার্যকারণ সম্পর্ক বনাম কুসংস্কার: তথ্য-১ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে চন্দ্রগ্রহণের কার্যকারণ নির্ণয় করে (সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের সরলরৈখিক অবস্থান)। পক্ষান্তরে তথ্য-২ কোনো কার্যকারণ অনুসন্ধান না করে ‘রাহু নামক রাক্ষস বা দৈত্যের গ্রাস’-এর মতো অলীক, পৌরাণিক ও কুসংস্কারমূলক কাল্পনিক ধারণাকে গ্রহণ করেছে।

    ২. নিয়মনির্ভরতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি বিশেষ ঘটনাকে প্রকৃতির সাধারণ নিয়মের অধীনে আনা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসৃত হয় না, বরং সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাপ্রসূত অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করা হয়।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: তথ্য-১ পর্যবেক্ষণযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষা ও প্রমাণযোগ্য। বিপরীতে তথ্য-২ মনগড়া ও বস্তুনিষ্ঠতাহীন, যার কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    ৪. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সর্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সর্বজনীন এবং সবার কাছে সমানভাবে সত্য ও গ্রহণযোগ্য। লৌকিক ব্যাখ্যা স্থান, কাল ও ব্যক্তির বিশ্বাসভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা থাকে না।

    পরিশেষে বলা যায়, তথ্য-১ হলো বস্তুনিষ্ঠ ও প্রমাণসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং তথ্য-২ হলো ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক লৌকিক ব্যাখ্যার উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন