অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব মুকল 'A' দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসের একজন কর্गকত্তা হিসেবে निয়োপ পেলেন। তিনি দেখতে পেলেন 'A' দেশে সকল সমপদের মালিক রাষ্ট্র। সে দেশের নাগরিকেরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করেন এবং কাজের পর্নিচালিত হয়। অথচ বাংলাদেশের পরিস্থিতি সমপূর্ণ ডিন্ন।
- ক)(1)
‘নির্বাচন বলতে কী বোঝায়? করে'-ব্যাখ্যা করো।
- খ)(2)
‘সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি করে'—ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
'A' দেশে প্রচলিত অর্থব্যবস্থা কোন ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ঘ)(4)
'A' দেশে বাংলাদেশের অনুরূপ অর্থনিতিক ব্যবস্থা প্রচলন করতে হলে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ অভাবটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বেছে নেওয়াকে অর্থনীতিতে নির্বাচন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপায়সমূহের ওপর ব্যক্তিমালিকানা থাকায় সমাজের সম্পদ মুষ্টিমেয় পুঁজিপতি শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত হয়। পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে তাদের উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করে অধিক মুনাফা অর্জন করে। এর ফলে ধনীরা আরও ধনী এবং শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণি আরও দরিদ্র হতে থাকে, যা সমাজে পুঁজিপতি ও শ্রমিক—এই দুই শ্রেণির মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের প্রচলিত অর্থব্যবস্থাটি সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার (Socialist/Command Economic System) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের উপায়সমূহের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা বজায় থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এখানে নাগরিকেরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পেয়ে থাকে, যা সমাজতন্ত্রের মূলনীতি। উদ্দীপকের 'A' দেশে সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র এবং নাগরিকদের যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী প্রাপ্তি নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তিমালিকানা ও সরকারি উদ্যোগের সহাবস্থান দেখা যায়। 'A' দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই 'A' দেশে বাংলাদেশের অনুরূপ মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলন করতে হলে নিম্নলিখিত সংস্কার ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
১. ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি: উৎপাদনের উপায় ও সম্পদে ব্যক্তি মালিকানা অর্জনের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বেসরকারি খাতের বিকাশ: শিল্প-কারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উন্মুক্ত সুযোগ প্রদান ও উৎসাহিত করতে হবে।
৩. বাজার অর্থনীতি ও দাম ব্যবস্থা চালু: কেন্দ্রীয়ভাবে মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে চাহিদা ও জোগানের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বাজার দাম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৪. মুনাফার স্বাধীনতা: বেসরকারি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য মুনাফা অর্জনের স্বাধীনতা দিতে হবে, যা তাদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করবে।
৫. সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান: ভারী শিল্প, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক খাত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্যান্য ক্ষেত্র বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করে যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ভোক্তার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভোক্তার পছন্দ ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে হবে।উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক 'A' দেশকে একটি কার্যকর মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও