রসায়ন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বেয়ারের সূত্রটি লেখো।
- খ)(2)
ডেসিমোলার দ্রবণ একটি প্রমাণ দ্রবণ কেন?
- গ)(3)
কনিক্যাল ফ্লাস্কে গৃহীত দ্রবণদ্বয়ের বিক্রিয়াটিকে আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে CuSO4 \mathrm{CuSO}{4} এর পরিবর্তে অম্লীয় K2Cr2O7 \mathrm{K}{2} \mathrm{Cr}{2} \mathrm{O}{7} দ্রবণ ব্যবহার করলে অণুমাপন প্রক্রিয়াটি আয়োডোমিতিক না আয়োডিমিতিক হবে? উপযুক্ত যুক্তি ও প্রয়োজনীয় সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একবর্ণী আলো কোনো সমসত্ত্ব শোষণকারী দ্রবণের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করলে দ্রবণের পুরুত্ব বা মাধ্যম দৈর্ঘ্যের সাথে আলোর তীব্রতা হ্রাসের হার দ্রবণের মোলার ঘনমাত্রার সমানুপাতিক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকে, তাকে প্রমাণ দ্রবণ বলে।
কোনো দ্রবণের প্রতি লিটারে ১ মোলের এক-দশমাংশ অর্থাৎ 0.1 মোল দ্রাব দ্রবীভূত থাকলে তাকে ডেসিমোলার দ্রবণ বলে। যেহেতু ডেসিমোলার দ্রবণের ঘনমাত্রা সর্বদা নির্দিষ্ট এবং সঠিকভাবে জানা থাকে (0.1 M বা 0.1 mol/L), তাই ডেসিমোলার দ্রবণ একটি প্রমাণ দ্রবণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কনিক্যাল ফ্লাস্কে গৃহীত দ্রবণদ্বয় হলো কপার সালফেট (CuSO₄) এবং পটাশিয়াম আয়োডাইড (KI)। এদের বিক্রিয়ায় কিউপ্রাস আয়োডাইড (Cu₂I₂), আয়োডিন (I₂) ও পটাশিয়াম সালফেট (K₂SO₄) উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়াটিতে দর্শক আয়ন হলো K⁺ এবং SO₄²⁻। দর্শক আয়ন বাদ দিলে মূল আয়নিক রূপ:
Cu²⁺ + I⁻ → Cu₂I₂ + I₂১. জারণ অর্ধ-বিক্রিয়া:
এখানে আয়োডাইড আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়ে আয়োডিন অণুতে পরিণত হয়:
2I⁻ → I₂ + 2e⁻ -------- (১)২. বিজারণ অর্ধ-বিক্রিয়া:
এখানে Cu²⁺ আয়ন ইলেকট্রন এবং আয়োডাইড আয়ন গ্রহণ করে Cu₂I₂ অধঃক্ষেপে বিজারিত হয়:
2Cu²⁺ + 2I⁻ + 2e⁻ → Cu₂I₂ -------- (২)উভয় অর্ধ-বিক্রিয়া যোগ করে পাই (ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হওয়ায় সরাসরি যোগ):
2Cu²⁺ + 4I⁻ → Cu₂I₂ + I₂ -------- (৩)এখন উভয় পক্ষে প্রয়োজনীয় দর্শক আয়ন (2টি SO₄²⁻ এবং 4টি K⁺) যোগ করে সম্পূর্ণ সমতাকৃত আণবিক সমীকরণটি পাওয়া যায়:
2CuSO₄ + 4KI → Cu₂I₂↓ + I₂ + 2K₂SO₄ - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে CuSO₄ এর পরিবর্তে অম্লীয় K₂Cr₂O₇ দ্রবণ ব্যবহার করলে অণুমাপন (টাইট্রেশন) প্রক্রিয়াটি 'আয়োডোমিতিক' (Iodometry) হবে।
যুক্তি ও ব্যাখ্যা:
কোনো জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে যদি কোনো জারক পদার্থের সাথে অতিরিক্ত আয়োডাইড লবণের (যেমন KI) বিক্রিয়া ঘটিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়োডিন (I₂) মুক্ত করা হয় এবং উৎপন্ন মুক্ত আয়োডিনকে উপযুক্ত নির্দেশকের উপস্থিতিতে প্রমাণ বিজারক দ্রবণ (যেমন Na₂S₂O₃ দ্রবণ) দ্বারা টাইট্রেশন করে জারকের পরিমাণ বা ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়, তবে সেই পদ্ধতিকে আয়োডোমিতি বলে।উদ্দীপকের CuSO₄ এর পরিবর্তে অম্লীয় K₂Cr₂O₇ দ্রবণ ব্যবহার করলে, তীব্র জারক K₂Cr₂O₇ কনিক্যাল ফ্লাস্কে উপস্থিত অতিরিক্ত KI কে জারিত করে আয়োডিন (I₂) মুক্ত করবে।
সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়া:
K₂Cr₂O₇ + 6KI + 7H₂SO₄ → Cr₂(SO₄)₃ + 4K₂SO₄ + 3I₂ + 7H₂Oপরবর্তীতে এই মুক্ত আয়োডিনকে (I₂) বুরেটে রক্ষিত প্রমাণ Na₂S₂O₃ দ্রবণ দ্বারা স্টার্চ নির্দেশকের উপস্থিতিতে টাইট্রেশন করা হয়:
2Na₂S₂O₃ + I₂ → Na₂S₄O₆ + 2NaIযেহেতু এখানে সরাসরি আয়োডিনের প্রমাণ দ্রবণ ব্যবহার না করে জারক (K₂Cr₂O₇) ও আয়োডাইড আয়নের বিক্রিয়ায় জাত 'মুক্ত আয়োডিন' কে প্রমাণ সোডিয়াম থায়োসালফেট দ্বারা পরিমাপ করা হচ্ছে, তাই এই প্রক্রিয়াটি নিঃসন্দেহে একটি আয়োডোমিতিক টাইট্রেশন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও