জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পেশি কী?
- খ)(2)
হিউমেরাসের বৈশিষ্ট্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্র-P এর গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্র Q ও R-এর পার্থক্যগুলো লিখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন, সংকোচন ও প্রসারণশীল যে বিশেষ কলা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন ও চলনে অংশ নেয়, তাকে পেশিকলা বা পেশি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিউমেরাস হলো মানবদেহের ঊর্ধ্ববাহুর দীর্ঘতম ও একমাত্র অস্থি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি মসৃণ গোলাকার মস্তক (Head) থাকে, যা স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরের সাথে যুক্ত হয়ে কাঁধের সন্ধি (Shoulder joint) গঠন করে।
২. এর নিম্নপ্রান্তে ট্রকলিয়া ও ক্যাপিচুলাম নামক দুটি অবতল ও উত্তল অংশ থাকে, যা যথাক্রমে আলনা ও রেডিয়াসের সাথে যুক্ত হয়ে কনুইয়ের সন্ধি গঠন করে।
৩. এর অস্থির মধ্যবর্তী অংশের (দেহ/শ্যাফ্ট) বহিঃপার্শ্বে পেশি সংযোজনের জন্য 'V' আকৃতির একটি ডেল্টয়েড রিজ (Deltoid tuberosity) বিদ্যমান। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-P হলো ঐচ্ছিক বা রৈখিক পেশি (Skeletal/Voluntary Muscle)।
চিত্র-P (ঐচ্ছিক পেশি)-এর গঠন বর্ণনা:
১. আকার ও আকৃতি: ঐচ্ছিক পেশির কোষগুলো লম্বা, বেলনাকার বা নলাকার এবং শাখাহীন।
২. সারকোলেমা ও সারকোপ্লাজম: প্রতিটি পেশিতন্তু একটি সূক্ষ্ম স্থিতিস্থাপক পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে, যাকে সারকোলেমা বলে। এর ভেতরে অবস্থিত সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলা হয়।
৩. নিউক্লিয়াস: প্রতিটি পেশিতন্তু বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত বা সিনসিটিয়াম (Syncytium) ধরনের হয়। নিউক্লিয়াসগুলো সারকোলেমার ঠিক নিচে পরিধির দিকে বিন্যস্ত থাকে।
৪. মায়োফাইব্রিল ও রেখা: সারকোপ্লাজমে দৈর্ঘ্য বরাবর অসংখ্য সূক্ষ্ম সূত্রক বা মায়োফাইব্রিল সমান্তরালভাবে সজ্জিত থাকে। মায়োফাইব্রিলে অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিনের কারণে পর্যায়ক্রমিক গাঢ় (A-ব্যান্ড) এবং হালকা (I-ব্যান্ড) অনুপ্রস্থ রেখা বা ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়।
৫. সংকোচন প্রকৃতি: এটি প্রাণীর ইচ্ছাধীন এবং দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে সংকুচিত হতে পারে, তবে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-Q হলো হৃদপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac Muscle) এবং চিত্র-R হলো অনৈচ্ছিক পেশি বা মসৃণ পেশি (Smooth/Involuntary Muscle)।
নিচে চিত্র-Q (হৃদপেশি) ও চিত্র-R (অনৈচ্ছিক পেশি)-এর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
১. কোষের আকৃতি: চিত্র-Q (হৃদপেশি)-এর তন্তুগুলো নলাকার এবং শাখান্বিত; অন্যদিকে চিত্র-R (অনৈচ্ছিক পেশি)-এর কোষগুলো মাকু-আকৃতির (মাঝখানে মোটা এবং দুই প্রান্ত ক্রমশ সরু) ও শাখাহীন।
২. ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক: হৃদপেশিতে দুটি কোষের সংযোগস্থলে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে; কিন্তু অনৈচ্ছিক পেশিতে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক অনুপস্থিত।
৩. অনুপ্রস্থ রেখা (ডোরা): হৃদপেশিতে অস্পষ্ট বা মৃদু আড়াআড়ি/অনুপ্রস্থ রেখা বিদ্যমান; তবে অনৈচ্ছিক পেশিতে কোনো প্রকার অনুপ্রস্থ ডোরাকাটা রেখা থাকে না (মসৃণ)।
৪. অবস্থান: হৃদপেশি কেবল হৃদপিণ্ডের প্রাচীরে (মায়োকার্ডিয়ামে) সীমাবদ্ধ থাকে; অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি পৌষ্টিকনালি, রক্তনালি, শ্বাসনালি, মূত্রথলি প্রভৃতি অভ্যন্তরীণ অঙ্গের প্রাচীরে দেখা যায়।
৫. ক্লান্তি বা অবসাদ: হৃদপেশি রিদমিক বা ছন্দোবদ্ধভাবে আজীবন অবিরাম সংকুচিত-প্রসারিত হয় এবং কখনো ক্লান্ত হয় না; অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশির সংকোচন মন্থর ও দীর্ঘস্থায়ী, এটিও সাধারণত সহজে ক্লান্ত হয় না তবে হৃদপেশির মতো ছন্দোবদ্ধ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও